নেতানিয়াহুর ‘সন্ত্রাস’ বিশ্বশান্তির জন্য চরম হুমকি: এরদোয়ান

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৬, ১০:০০

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডকে ‘সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, এটি আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক শান্তির জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

শুক্রবার (২০ মার্চ) ইস্তাম্বুলে দেওয়া এক ভাষণে এরদোয়ান দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নেতানিয়াহুর উসকানিতে শুরু হওয়া ইরান-কেন্দ্রিক হামলাগুলো এই অঞ্চলের অস্থিরতাকে আরও গভীর করেছে।

তিনি ইসরায়েলি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, একটি ‘জায়নবাদী গণহত্যা নেটওয়ার্ক’ গাজায় ত্রাণ সহায়তা বন্ধ করে দিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দস্যুপনা চালাচ্ছে। বর্তমানের এই কঠিন সময়ে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি জোর দেন।

এরদোয়ান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, ইরান যুদ্ধের দোহাই দিয়ে ইসরায়েল মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদ ইবাদতের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিম তীরসহ অন্যান্য অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল তাদের অবৈধ বসতি স্থাপন এবং সম্প্রসারণবাদী নীতিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। 

লেবানন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট জানান যে, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় সেখানে ১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিশ্বজুড়ে চলমান রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণসহ নানা সংঘাতের সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল তাদের আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শোক ও কষ্টের মধ্যে থাকা মুসলিম উম্মাহ, বিশেষ করে গাজাবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করেছেন এরদোয়ান। তিনি বিশ্বাস করেন, ধৈর্য, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব খুব শীঘ্রই এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বর্তমানে ইসলামি বিশ্ব এক সংকটময় পথ অতিক্রম করছে যা বিভিন্ন বাধা, ষড়যন্ত্র এবং ফাঁদে পরিপূর্ণ। তুরস্ক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং সংলাপ ও কূটনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে তাদের ‘সর্বোত্তম সামর্থ্য’ দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।

অন্যান্য আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়ে এরদোয়ান একটি ইতিবাচক খবর দিয়ে জানান যে, তুরস্কের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ঈদ উপলক্ষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সাময়িক শান্তি যেন স্থায়ী রূপ নেয়। 

দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে রক্তক্ষয় বন্ধ হওয়া এবং সাধারণ মানুষের শান্তিতে ঈদ পালন করতে পারার বিষয়টিকে তিনি স্বাগত জানান। তুরস্কের এই কূটনৈতিক সাফল্য মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। এরদোয়ানের এই বক্তব্য বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে তুরস্কের প্রভাবশালী অবস্থানের বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ইত্তেফাক/টিএইচ