চীন তার ‘কৃত্রিম সূর্য’ পারমাণবিক ফিউশন প্রকল্পের জন্য রেকর্ড ৫৮২ টন ওজনের একটি অতিপরিবাহী (সুপারকন্ডাক্টিং) চৌম্বক তৈরি ও পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ফিউশন শক্তির সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এটি একটি বড় অগ্রগতি।
ফর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেফেইয়ের ইনস্টিটিউট অব প্লাজমা ফিজিক্স এই চৌম্বকটি নির্মাণ করেছে, যা কোনো ফিউশন রিয়্যাক্টরের জন্য তৈরি এ যাবৎকালের বৃহত্তম ম্যাগনেট। ‘ডি’ আকৃতির এই কয়েলটি প্রায় ২১ মিটার লম্বা এবং ১২ মিটার চওড়া।
বার্নিং প্লাজমা এক্সপেরিমেন্টাল সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক নামের রিয়্যাক্টরে এটি ব্যবহার করা হবে। সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই ‘কৃত্রিম সূর্য’ রিয়্যাক্টরটি ডিজাইন করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, রিয়্যাক্টরটি প্লাজমাকে ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উত্তপ্ত করবে, যা সূর্যের কেন্দ্রের চেয়েও অনেক গুণ বেশি গরম। যেহেতু কোনো পদার্থ এই তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না, তাই প্রকোষ্ঠের ভেতরে অত্যন্ত শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্লাজমাকে ভাসমান রাখা হবে। এ জন্য রিয়্যাক্টরটিকে ঘিরে এমন ১৬টি কয়েল স্থাপন করা হবে।
ফর্বস জানিয়েছে, চীন ২০২৭ সালের শেষের দিকে ‘বেস্ট’ রিয়্যাক্টরের কাজ শেষ করতে চায় এবং ২০৩০ সালের দিকে ফিউশনভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রদর্শন করতে চায়। এটি সফল হলে প্রথাগত পারমাণবিক বর্জ্য ছাড়াই বিপুল পরিমাণ পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
সৌর প্যানেল, ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক গাড়িতে আধিপত্য বিস্তারের পর চীন এখন ফিউশন শক্তির মতো প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টার ও ভবিষ্যতের শিল্পকারখানার বর্ধিত বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে অনেক দেশ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ফিউশন শক্তির বিকাশে কাজ করছে।
বাণিজ্যিকভাবে ফিউশন শক্তি পাওয়ার বিষয়টিতে এখনো অনেক সময়ের প্রয়োজন হলেও চীনের এই অগ্রগতিকে ওই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের পথে বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি

