শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

শাড়ি-পাঞ্জাবিতে রঙিন একটি দিন

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ১৮:০৯

  মো. আবু হানিফ

 

২০১৫ সালে ক্যাম্পাসে পা রাখেন। এখন ২০১৯, অনার্স শেষ হতে বাকি আর কয়েকদিন। এত দিনে বেড়েছে বন্ধুত্ব, বন্ধন আর অগণিত স্মৃতি। বলছিলাম রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের অনিকেত ৭৪ ব্যাচের কথা। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে, জীবনের তাগিদকে সাড়া দিয়ে প্রতিনিয়ত ছুটতে হয়, ছিন্ন করতে হয় মায়ার বাঁধন। তবে মনের মণিকোঠায় স্মৃতিগুলো থাকে অম্লান।

ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতিগুলোকে আরো স্মরণীয় করে রাখতে অনিকেত ৭৪ ব্যাচ আয়োজন করেন ভিন্নধর্মী এক উত্সবের। চমকপ্রদ এ উত্সবের নাম দেওয়া হয় শাড়ি-পাঞ্জাবি (শাপা) উত্সব। বাঙালিয়ানা ঐতিহ্যকে লালন করে ছেলেরা এক রঙের পাঞ্জাবি এবং মেয়েরা রঙিন শাড়ি পরেন। ছেলেরা সচরাচর পাঞ্জাবি পরলেও মেয়েদের শাড়ি পরা হয়ে ওঠে না; কিন্তু এদিন বাদ ছিলেন না একজনও। যে শাড়ি ফোবিয়ায় ভুগত সেও যেন শাড়িতে নিজেকে প্রকাশ করেন গ্রামীণ বাঙালি নারীর বেশে।

২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সবাই শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে ক্লাসে যান। দুপুর ১২টায় ক্লাস শেষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করেন তারা। শোভাযাত্রা শেষে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে সবাই মেতে ওঠেন আনন্দ আর বাঁধভাঙা উল্লাসে। সবার উদ্দেশ্য অভিন্ন, কীভাবে সময়গুলোকে স্মরণীয় করে রাখা যায়। কেউ ছবি তোলায় ব্যস্ত, কেউবা আবার গল্পে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে আয়োজন করা হয় বল নিক্ষেপ, বিস্কুট দৌড়সহ বিভিন্ন ধরনের গেইম শো। সবাই যেন নিজের অতীতকে ফিরে পায়। খেলা শেষে সবাই একসঙ্গে দুপুরের খাবার খায়। বিকালে ঘুড়ি উত্সব ও সন্ধ্যায় ফানুস উড়ানোর কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা হয়ে ওঠেনি।

বৃষ্টি যেন শাপা উত্সবে যোগ করে নতুন মাত্রা। বন্ধুত্বের খুনশুটিগুলো আরো গভীর হতে থাকে। প্রাপ্তি-প্রত্যাশার সূচকে যা পরিমাপ করা যায় না। ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ আলম বলেন, ‘আমাদের স্নাতক প্রায় শেষ। সামনে র্যাগ-ডে হবে। র্যাগ-ডে এর পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবেই আমাদের এ ব্যতিক্রমধর্মী উত্সবের আয়োজন। এরকম উত্সব ক্যাম্পাসে আগে কখনো হয়নি। আমরাই প্রথম, অনিকেত ৭৪ই প্রথম। সামনে আমাদের আরো বিভিন্ন প্রোগ্রাম আছে যা ধারাবাহিকভাবে র্যাগ-ডে পর্যন্ত চলবে।’ এভাবেই শেষ হয় অনিকেত ৭৪ ব্যাচের উত্সবমুখর এ দিনটি।