সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সরাসরি সামরিক জবাব দেওয়ার আশঙ্কায় দেশটিতে চলমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। রোববার (২২ মার্চ) ‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইরান সৌদি আরবের দিকে ৪৩০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। তবে ইরানি কর্মকর্তারা এখন মনে করছেন, রিয়াদ বর্তমানে চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে এবং বড় ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে সৌদি আরব সরাসরি ইরানের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার মতো কঠিন পদক্ষেপ নিতে পারে, যা তারা এত দিন এড়িয়ে চলেছে।
সৌদি আরবের কর্মকর্তারা সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং পানি শোধনগার বা ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের ওপর যেকোনো আঘাত তাদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা।
রিয়াদের পক্ষ থেকে গত কয়েক সপ্তাহে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, যদি কোনো বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তবে সৌদি আরব সরাসরি পাল্টা হামলা চালাতে বাধ্য হবে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরব তাদের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন বাহিনীকে তাদের দেশের ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, সৌদি আরবে আক্রমণ সীমিত করার পাশাপাশি কাতারকেও লক্ষ্যবস্তু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। তবে কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলা ‘স্বাভাবিক নিয়মেই’ চলবে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।
ইরানের বেশির ভাগ ড্রোন এ পর্যন্ত সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং খালি কোয়ার্টারে অবস্থিত শায়বাহ তেল ক্ষেত্রকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান এয়ারবেজ লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র। বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পর।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এমন পদক্ষেপ নিলে তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত হানবে।
এমন ভয়াবহ পরিণতির কথা চিন্তা করে বেশ কিছু উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো না হয়। কারণ তারা আশঙ্কা করছে, ওয়াশিংটনের এমন পদক্ষেপ তাদের নিজেদের জ্বালানি ও পানি শোধন অবকাঠামোকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে। আপাতত উভয় পক্ষই এক চরম সামরিক ও কূটনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
