ব্যাংকার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৩৯

সম্প্রতি জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জনতা ব্যাংক লিমিটেডে ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (এইও-টেলর)’ পদে ৫৩৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর আগে নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত করায় নতুন করে আবার আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।  সরকারি ব্যাংকগুলোর নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইটে। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে আবেদনের কার্যক্রম। ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে লিখিত পরীক্ষা, ভাইভাসহ বিভিন্ন ধাপ। এজন্য আগ্রহীদের প্রয়োজন যথেষ্ট প্রস্তুতির। আমাদের এবারের আয়োজন সরকারি ব্যাংকগুলোতে পরীক্ষার জন্য কেমন যোগ্যতা লাগে ও কেমন প্রস্তুতি প্রয়োজন তা নিয়েই। বিস্তারিত লিখেছেন মাহবুব শরীফ

আবেদন পদ্ধতি

সাধারণত সরকারি ব্যাংকগুলোতে নিয়োগ সংক্রান্ত যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় তা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইটেই পাওয়া যায়। এছাড়াও জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতেও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত জনতা ব্যাংকের লোকবল বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তিটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট (www.erecruitment.bb.org.bb) -এ পাওয়া যাবে। ৪ আগস্ট শেষ হয়েছে আবেদনের সময়সীমা। এই পদে যারা আবেদন করেছেন তাদের স্নাতক (সম্মান)/স্নাতকোত্তর পাসের ফলাফল প্রকাশের তারিখ চাওয়া হয়েছে ২৪ মে ২০১৬ তারিখ। আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম ও অন্য শর্তাবলি ওয়েবসাইটেই পাওয়া যায়। আবেদনের আগে শর্তাবলি ভালো করে দেখে নেওয়া ভালো। অনলাইনে আবেদন করার পর পাওয়া ট্র্যাকিং নম্বরসংবলিত ফরমটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হয়। ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থী হলে দেশীয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড থেকে ইস্যুকৃত সমমান সার্টিফিকেট এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত হলে দেশীয় সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়/বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ইস্যুকৃত সমমান সার্টিফিকেট অনুযায়ী ডিগ্রি ও ফলাফলের (শ্রেণি/বিভাগ/জিপিএ/সিজিপিএ উল্লেখসহ) তথ্য প্রদান করতে হয়।

 

আবেদনের যোগ্যতা

উল্লিখিত পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের যোগ্য হিসেবে প্রয়োজন হয়- কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণির (সমমানের সিজিপিএ) চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতকোত্তর (সমমানের) পাস। একাডেমিক পরীক্ষায় কোনো তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ/জিপিএ গ্রহণযোগ্য হয় না। এ পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য কম্পিউটার চালনায় ধারণা থাকতে হয়।

প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে কোনো কাগজপত্র পাঠাতে হয় না। লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের পর উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদনে উল্লিখিত তথ্যাদি ও সমর্থনে প্রয়োজনীয় দলিলাদি আহ্বান করা হবে। দাখিলকৃত দলিলাদির সঠিকতা যাচাই সাপেক্ষে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। চাকরিরত প্রার্থীরা তাঁদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদনক্রমে আবেদন করতে পারবেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে দলিলাদি দাখিলের সময় তাঁদের নিজ নিজ নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। অসম্পূর্ণ/ভুল তথ্যসংবলিত দরখাস্ত কোনো প্রকার যোগাযোগ ছাড়াই বাতিল করা হবে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা প্রতিবন্ধী প্রার্থী ব্যতীত অন্য সব প্রার্থীর ক্ষেত্রে বয়স সর্বনিম্ন ২১ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ বছর। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩২ বছর। নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটাসংক্রান্ত সরকারি নীতিমালা ও অন্যান্য বিধি-বিধান অনুসরণ করা হবে। বিবাহিত মহিলা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে স্বামীর স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করতে হয়।

 

পরীক্ষাপদ্ধতি

প্রার্থীদের বাছাই পরীক্ষা হবে তিনটি ধাপে—এমসিকিউ পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা ও সর্বশেষ ভাইভা। পরীক্ষার মানবণ্টন কেমন হতে পারে—এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার রাজীব কুমার বলেন, প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয় এমসিকিউ পদ্ধতিতে। বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণে ১৫ নম্বর বরাদ্দ থাকে। ইংলিশ থেকে ২০ আর গণিত থেকে ২০ নম্বরের প্রশ্ন আসে। বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি থেকে প্রশ্ন করা হয় ৩০ নম্বরের। আর কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তি থেকে প্রশ্ন করা হয় ১৫ নম্বরের ওপর। সব বিষয় মিলে ৮০টি প্রশ্ন থাকে। তার জন্য নম্বর বরাদ্দ থাকে ১০০। তারপর লিখিত পরীক্ষা হবে তিনটি বিষয়ের ওপর সর্বমোট ২০০ নম্বরের। বাংলা, ইংলিশ ও গণিত থেকে প্রশ্ন করা হবে। বাংলায় সমসাময়িক বিষয়ের ওপর একটি রচনা লিখতে আসে। এতে ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য প্রতিবেদন লিখতে  আসে। সেখানে নম্বর থাকে ২০। ইংলিশের ক্ষেত্রে ফোকাস রাইটিং বা রচনা লেখার জন্য ৩০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। একটি প্যাসেজ দেওয়া থাকে। সেখান থেকে ৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এর জন্য ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। অন্যদিকে বাংলা থেকে ইংলিশ অনুবাদে ২০ নম্বর। আবার ইংলিশ থেকে বাংলা অনুবাদে ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। আর গণিতের জন্য ৭০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। মাঝেমধ্যে অন্যান্য বিষয় থেকে নম্বর কমিয়ে গণিতের জন্য ৮০-৯০ নম্বরের প্রশ্ন হতে পারে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে প্রার্থীদের সর্বশেষ মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। মৌখিক পরীক্ষার জন্য নম্বর বরাদ্দ থাকে ২৫।

 

যে বিষয়ে পূর্বপ্রস্তুতি দরকার

সরকারি সব ব্যাংকে এই পদের জন্য প্রায় একই প্রশ্ন করা হয়। সেজন্য বিগত বছরের প্রশ্নগুলো অনুশীলন করলে ভালো ধারণা পাওয়া যাবে। মাধ্যমিক শ্রেণির বইগুলোও খুব কাজে দেবে। বেসিক নলেজ ভালো থাকতে হবে মনে রাখতে হবে যার বেসিক যত ভালো সে পরীক্ষায় তত ভালো করবে।

 

বাংলা

শুরুতে যে পরীক্ষাটা হবে তা হলো এমসিকিউ পরীক্ষা। এতে থাকবে বাংলা ব্যাকরণ অংশের প্রবাদ প্রবচন, উপসর্গ, সন্ধি বিচ্ছেদ, সমার্থক শব্দ, বাংলা পরিভাষা, বাগধারা, পদ, সমোচ্চারিত শব্দ, এক কথায় প্রকাশ, বিপরীত শব্দ, শুদ্ধ বানান, বচন, সমাস, কারক, বিভক্তিসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন। বিভিন্ন উপন্যাসের লেখকের নাম, বিভিন্ন গ্রন্থের নাম, বিভিন্ন উপন্যাসের চরিত্রের নাম, রচয়িতা, পঙি্ক্তমালা, জন্ম-মৃত্যুকালসহ উপন্যাস, নাটক ও সাহিত্যের অন্যান্য অংশ থেকে প্রশ্ন থাকে।

 

ইংরেজি

বর্তমান সময়ে ইংরেজি ছাড়া পরিক্ষার কথা কল্পনাই করা যায় না। এই পরীক্ষাতেও তার ব্যতিক্রম নয়। ইংরেজির গ্রামার অংশে এমসিকিউ পরীক্ষায়  গ্রামারের নানা বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। রচনামূলক অংশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইংরেজি রচনা আসতে পারে। বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদও থাকে। সেসব বই ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির পাঠ্য ইংলিশ গ্রামার বইগুলো অনুশীলন করলে আপনার প্রস্তুতি বেশ ভালো হবে।

 

গণিত

অন্য বিষয়গুলোর মতো পাটিগণিত ও বীজগণিত দুই অংশ থেকেই প্রশ্ন করা হয় এমসিকিউ এবং রচনামূলক পরীক্ষায়। পাটিগণিতে লসাগু, গসাগু, শতকরা, সুদকষা, অনুপাত-সমানুপাত, ঐকিক নিয়মসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। বীজগণিতে উত্পাদক নির্ণয়, সমীকরণ, মূলদ, অমূলদ সংখ্যা, অসমতা, সূচক ও লগারিদমের সূত্রের প্রয়োগ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। সব সময়েই নিচের ক্লাসের বইগুলো বেশি কাজে আসে।

 

সাধারণ জ্ঞান

বরাবরই সকল নিয়োগ পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞানকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। বাংলাদেশ প্রসঙ্গ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় সাধারণ জ্ঞান অংশে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থা, ভাষা আন্দোলন, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সভ্যতার ইতিহাস, শিল্প ও বাণিজ্য, অর্থনীতি, কৃষি, সর্বশেষ বাজেট, জিডিপি, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, সরকার, রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থাসহ সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলির বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। আন্তর্জাতিক বিষয়ের মধ্যে বিশ্ব রাজনীতি, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিভিন্ন দেশ, মুদ্রা, আন্তর্জাতিক আইন, বিচার, দিবস, সন্মেলন, পুরস্কার, সম্মাননা, খেলাধুলাসহ সাম্প্রতিক সময়ের বিশ্বের নানা ঘটনা নিয়ে সাজানো হয় প্রশ্নাবলি।