যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের, ‘বিশ্বাস-অবিশ্বাসের’ দোলাচলে ইরান

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১২:১৩

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও বর্তমানে তার ওপর অবিশ্বাসের ঘন মেঘ জমেছে। ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই মুহূর্তে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতা চলছে না।

সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা নাকচ করে দিলেও ইরান কিন্তু কূটনৈতিকভাবে স্থবির হয়ে নেই। বরং তারা একটি ‘আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা’ নীতি অনুসরণ করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি মিশর, পাকিস্তান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। এই তৎপরতা নির্দেশ করে যে, ইরান বিশ্বশক্তির চেয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ও কৌশলগত জোট গঠনের দিকেই বেশি মনোযোগী।

তেহরান কেন আলোচনার টেবিলে বসতে আগ্রহী নয়, তার পেছনে রয়েছে গভীর নিরাপত্তার সংকট। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এর আগে দুবার যখন আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান ছিল, ঠিক তখনই তেহরানে হামলা চালানো হয়েছে। ফলে ইরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে একটি দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে যে, কূটনৈতিক আলোচনার আড়ালে আসলে তাদের সামরিক ও কৌশলগত ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইরানের কূটনৈতিক মহলের স্পষ্ট বার্তা—যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ওপর বিমান হামলা বা সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে, ততক্ষণ কোনো কূটনৈতিক আলোচনার পরিবেশ তৈরি হওয়া অসম্ভব। তাদের মতে, একদিকে হামলা চলবে আর অন্যদিকে সংলাপের টেবিলে বসা হবে—এমন ‘অপ্রাসঙ্গিক’ দ্বিমুখী নীতিতে তেহরান বিশ্বাসী নয়।

ইত্তেফাক/কেএইচ