দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছে দুই বছরের শিশু সাবিহা। তবে একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে তার ভাই সাবিত (৭) এবং ফুফাতো বোন সোহানা (১১)।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ৪০ জন যাত্রীসহ পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেলে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। বেঁচে যাওয়া সাবিহা ও নিহত সাবিত রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী বাজার এলাকার শরিফ মল্লিকের সন্তান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাবিতের চর্মরোগের চিকিৎসার জন্য তার মা শাকিলা আক্তার দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তাদের ফুফু নিশি ও ফুফাতো বোন সোহানা। তারা একসঙ্গে রাজবাড়ী শহরের বাস মালিক সমিতি এলাকা থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে ওঠেন। সাবিহার দাদা তাদের বাসে তুলে দিয়ে এসেছিলেন। বাস ডুবে যাওয়ার পর সাবিহা, তার মা ও ফুফু পানির ওপর ভেসে উঠতে সক্ষম হন। কিন্তু সাবিহার ভাই সাবিত ও ফুফাতো বোন সোহানা নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে রাতেই ডুবুরি দল তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
সাবিহার দাদা নবীজ উদ্দিন মল্লিক বলেন, বাস যখন নদীর দিকে যেতে শুরু করে তখনই সাবিহা তার মায়ের গলা শক্ত করে ধরে ছিল। বাস ডুবে যাওয়ার পর তারা একসঙ্গে ভেসে ওঠে। একইভাবে আমার মেয়েও ভেসে উঠে বেঁচে যায়। কিন্তু আমার দুই নাতি-নাতনিকে জীবিত আর পেলাম না।

