ইত্তেফাক রিপোর্ট
পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে। গেল জুলাই মাসে বিদেশিরা পুঁজিবাজার থেকে যে পরিমাণ শেয়ার কিনেছেন, তার চেয়ে বেশি বিক্রি করেছেন। এ নিয়ে টানা পাঁচ মাস বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ক্রয়ের চেয়ে বিক্রি করেছেন বেশি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, জুলাই মাস জুড়ে বিদেশিরা শেয়ারবাজার থেকে ৩০৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয় করেছেন। এর বিপরীতে বিক্রি করেছেন ৪৭৪ কোটি ৩ লাখ টাকার। অর্থাত্, জুলাই মাসে বিদেশিরা শেয়ার ক্রয়ের চেয়ে বেশি বিক্রি করেছেন ১৬৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকার। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মাসের পর মাস শেয়ার বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকায় সার্বিক বাজারে এর নেচিবাচক প্রভাব পড়েছে। উল্লেখ্য, গেল ছয় মাস ধরেই পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন লক্ষ করা যাচ্ছে। দরপতন হচ্ছে। বড়ো দরপতনের কারণে এই সময়ের মধ্যে রাজধানীর মতিঝিলের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। একই সঙ্গে প্রতীকী অনশন ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা।
ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই মাসের মতো আগের চার মাসেও বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপ ছিল। এর মধ্যে জুনে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ২৯৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয়ের বিপরীতে বিক্রি করেন ৩০৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার। অর্থাত্, জুনে ১০ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার বেশি বিক্রি করেন তারা। একইভাবে মে মাসে বিদেশিরা শেয়ার ক্রয় থেকে বিক্রি বেশি করেন ৬৫ কোটি ১৬ লাখ টাকার। তার আগের মাস এপ্রিলে ১৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকার শেয়ার বেশি বিক্রি করেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।
ডিএসইর সূচক বাড়ল প্রায় ২৭ পয়েন্ট :ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল মঙ্গলবার প্রধান সূচক প্রায় ২৭ পয়েন্ট বেড়েছে। ডিএসইতে গতকাল মোট ৩৫৪টি কোম্পানির ১৪ কোটি ৮১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৩৪টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৫৬৮ কোটি ৭৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ২৬ দশমিক ৯২ পয়েন্ট বেড়ে ৫১৮৭ দশমিক ২৯ পয়েন্ট, ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৯ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৮৩৬ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ৪ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বেড়ে ১১৯৪ দশমিক ৩৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনকৃত কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭৩ টির, কমেছে ১৩৬ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৫টি কোম্পানির শেয়ার।
লেনদেনের ভিত্তিতে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো ইউনাইটেড পাওয়ার, মুন্নু সিরামিকস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, জেএমআই সিরিঞ্জ, ইন্দোবাংলা ফার্মা, ভিএফএস ট্রেড, খুলনা পাওয়ার, ফরচুন সুজ, বিএসসিসিএল ও স্কয়ার ফার্মা। দর বৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো খুলনা পাওয়ার, সাইফ পাওয়ার, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, বেঙ্গল উইন্সডোর, জেএমআই সিরিঞ্জ, লিব্রা ইনফিউশন, এস আলম কোল্ড রোল্ড, প্রগতি লাইফ, প্রিমিয়ার সিমেন্ট ও মুন্নু স্টাফলার। অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো ভিএফএস থ্রেড, এসইএমএল এফবিএসএল গ্রোথ ফান্ড, আইসিবি অগ্রণী ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইউনাইটেড এয়ার, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, ভিএএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ড, দুলামিয়া কটন, এনসিসিবি মিউচুয়াল ফান্ড ও বীচ হ্যাচারি।
