জিম্বাবুয়ের অপেক্ষায় বিসিবি

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ২১:০১

স্পোর্টস রিপোর্টার

সম্ভাব্য সূচি তৈরি হয়ে গেছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান একমাত্র টেস্ট। তারপর টি-২০ ফরম্যাটে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের সিরিজ নাকি ত্রিদেশীয় সিরিজ, সেটিই চূড়ান্ত হয়নি এখনো। বাংলাদেশের হোম সিরিজের পরের ভাগটা আটকে আছে জিম্বাবুয়ের জন্য। জিম্বাবুয়ে আসলেই হবে ত্রিদেশীয় সিরিজ। আর দলটি না আসলে আফগানদের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টি-২০ সিরিজই বহাল থাকবে। জিম্বাবুয়ের সাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় এখন বিসিবি।

গতকাল বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন জানিয়েছেন, জিম্বাবুয়েকে রেখেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিসিবির আশা জিম্বাবুয়ে আসবে এবং আগামী ২-১ দিনের মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

জিম্বাবুয়ের আসা, না আসার ওপর নির্ভর করছে আরেকটি বিষয়। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ে এলে তাদের সঙ্গে দুই ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনের আশাও করছে বিসিবি। আর ঐ সিরিজের মাধ্যমেই মাশরাফি বিন মুর্তজা মাঠ থেকে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে পারেন।

বিসিবি অপেক্ষা করছে জিম্বাবুয়ের সিদ্ধান্তের। বিসিবির প্রধান নির্বাহীর বিশ্বাস জিম্বাবুয়ে আসবে। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেছেন, ‘আমরা আশা করছি জিম্বাবুয়ে আসবে। সেভাবেই দুটি অপশন নিয়েই কাজ হবে। আমার মনে হয় যে ২-১ দিনের মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত হলে আপনারা জানতে পারবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটা খেলব। এরপর ট্রাইনেশন বা দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডে যাই হোক খেলব। এটা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে। সেভাবেই পরিকল্পনা আছে। পরিবর্তন হবে কি না এটা নির্ভর করবে। ঐচ্ছিক কিছু আলোচনা হচ্ছে বোর্ড টু বোর্ড। আমার মনে হয় জিম্বাবুয়ে যদি কনফার্ম করে সেক্ষেত্রে টি-টোয়েন্টি নিয়েই যাব।’

আইসিসির এফটিপি অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হোম সিরিজে একটি টেস্ট ও দুটি টি-২০ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের অনুরোধেই টি-২০ ফরম্যাটে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করে বিসিবি। গত মাসে আইসিসি সাময়িকভাবে জিম্বাবুয়েকে বরখাস্ত করলে পরিস্থিতি বদলে যায়। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে বরখাস্ত হয় জিম্বাবুয়ে। আইসিসির টুর্নামেন্টে খেলার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দ্বিপক্ষীয় সিরিজে অংশ নিতে বাধা নেই জিম্বাবুয়ের।

তার চেয়ে বড়ো কথা এই খারাপ সময়ে দেশটির পাশে থাকতে চায় বিসিবি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের উঠে আসার পেছনে জিম্বাবুয়ের অবদান অনস্বীকার্য। যখন বড়ো দলগুলো কালেভদ্রে খেলত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, তখন নিয়মিত সিরিজ খেলেছে দেশটি। সেই অবদান মনে রেখে পুরোনো ‘বন্ধু’ জিম্বাবুয়ের সহযোগিতায় থাকতে চায় বিসিবি। এমনকি গুঞ্জন আছে, প্রয়োজনে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডকে আর্থিক সাহায্যও করতে পারে বিসিবি।

জিম্বাবুয়ে সময় চেয়েছে জানিয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী গতকাল বলেছেন, ‘তাদের ক্রিকেট বোর্ড আমাদের কাছে সময় চেয়েছিল যে এ বিষয়টি তারা মানিয়ে নিতে পারবে বা সিরিজে অংশ নেবে। আমরা আশা করছি দ্রুত তাদের ক্রিকেট বোর্ডের সম্মতি আমরা পাব।’

আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় থাকা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ম্যাচ খেললে তার আন্তর্জাতিক মর্যাদা নিয়ে দুর্ভাবনা নেই বিসিবির। নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেছেন, ‘ম্যাচের মর্যাদা সম্পর্কে কোনো অসুবিধা নেই, যেটা হয়েছে তারা আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে না। সেগুলো আইসিসি অনুসরণ করছে। তারা তাদের সরকারের সঙ্গে কথা বলছে, চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সিরিজটি ঠিক রাখার। আমাদের সঙ্গে সর্বশেষ যে কথা হয়েছে তারা বলেছে যে সিরিজটি ঠিক আছে। আশা করছে ২-১ দিনের মধ্যে ওদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমরা জানতে পারব।’