কৃষিজমিতে মিললো ৭টি ল্যান্ডমাইন, একমাস পর নিষ্ক্রিয়

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৮:২৬

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের মাখালডাঙ্গা স্কুলপাড়া এলাকায় ফসলের ক্ষেতে পাওয়া ৭টি ল্যান্ডমাইন (বোমা) সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা ১টার দিকে যশোর সেনানিবাসের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের প্রধান ক্যাপ্টেন রিফাতের নেতৃত্বে মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসব ল্যান্ডমাইন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি বাহিনীর ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছিল। যুদ্ধ শেষে পাকিস্তানি বাহিনী যখন বাংলাদেশ ত্যাগ করে, তখন তারা এগুলো পুঁতে রেখে যেতে পারে। সর্বশেষ প্রায় একমাস আগে মাইনগুলো স্থানীয়দের নজরে আসে এবং তারা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঢাকায় সদর দপ্তরে বার্তা পাঠায়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে যোগাযোগ করার এক মাস পর ২৮ মার্চ যশোর সেনানিবাসের ৭টি ল্যান্ডমাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করে।

স্থানীয় আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ও মাখালডাঙ্গা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘ল্যান্ডমাইনগুলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের। সে সময় বহু পাকিস্তানি সৈন্য মাখালডাঙ্গা গাড়াবাড়িয়া ও দিননাথপুর এলাকায় যুদ্ধ করতো। যুদ্ধ শেষে তারা চলে যাওয়ার সময় হয়ত ল্যান্ডমাইনগুলো পুঁতে রেখে গেছে।’

গাইদঘাট গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাকিস্তানি বাহিনী বড় বড় ব্রিজ-কালভার্ট, ট্রাক, ট্যাংক ধ্বংস করতে এসব ল্যান্ডমাইন ব্যবহার করতো। যুদ্ধের পর প্রায় ৫৫ বছর পার হতে যাচ্ছে। মাইনগুলো হয়তো আগের মতো শক্তিশালী অবস্থায় নেই। তবে, মাইনগুলোর গায়ে হলুদ রঙের লেখা স্পষ্ট ও অবয়ব নতুনের মতনই আছে।

ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এসআই জালালও বলেন, মনে হচ্ছে ১৯৭১ সালে যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য পাকিস্তানি বাহিনী এগুলো এনেছিল।

ল্যান্ডমাইনগুলো কোন দেশের তৈরি বা এর সক্ষমতা কেমন এ প্রশ্নের জবাবে নিষ্ক্রিয় দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাইনগুলো ১৯৭১ সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীদের ফেলে রেখে যাওয়া।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় কৃষক সাইফুল তার জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য নালা খননকালে মাইনগুলো দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। এরপর থেকে পুলিশ সেগুলো পাহারা দিচ্ছিল।

ইত্তেফাক/এপি