ট্রাফিকে ই-ক্যাশ সেবা এবং সড়কে শৃঙ্খলা

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৪

সময়ের প্রয়োজনে পূর্বের অ্যানালগ ব্যবস্থার হালনাগাদ করিয়া নেওয়াটাই স্বাভাবিক বিষয়। তাহা এইবার দৃশ্যমান হইয়াছে ট্রাফিক জরিমানার টাকা পরিশোধ করিবার ক্ষেত্রে। গত রবিবার হইতে এইক্ষেত্রে ই-ক্যাশ সিস্টেম চালু হইয়াছে। অর্থাত্ এখন হইতে ট্রাফিক প্রসিকিউশনের জরিমানার টাকার জন্য চালক ও গাড়ির কাগজপত্র জব্দ করা হইবে না। চালক তাহার জরিমানার টাকা এখন হইতে অন স্পটে যে কোনো ব্যাংকের ডেবিট, ক্রেডিট, ভিসা, ক্যাশ, বিকাশ, রকেট ও অন্যান্য কার্ড ব্যবহার করিয়া পরিশোধ করিতে পারিবেন। অন স্পটে টাকা পরিশোধের ফলে চালক বা মালিক হয়রানি হইতে মুক্ত থাকিবেন বলিয়া আশা করা হইতেছে। কারণ, এতদিন অবধি ইউসিবিএলের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে হইত। টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত কাগজপত্র জিম্মি থাকিত। এই কারণে জরিমানার টাকা দিতে বিলম্ব হইলে নানা মাত্রায় ভোগান্তির শিকারও হইতে হইত। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে জব্দকৃত কাগজপত্র পাঠাইতেও নানা ধরনের বিড়ম্বনা ও হয়রানি হইতে হইত। আশা করা যাইতেছে, এই ই-ক্যাশ সেবা চালু হইবার মাধ্যমে এই সংক্রান্ত ভোগান্তির মাত্রা কমিয়া আসিবে। ভুল জায়গায় পার্কিং ও কাগজপত্র না থাকিবার কারণে গাড়ি রেকারিং করা হইলে উহার জরিমানার টাকা কর্মকর্তারা এতদিন হাতে হাতে নগদ হিসাবে গ্রহণ করিতেন। কিন্তু এখন হইতে এই টাকা নগদ নহে, ই-ক্যাশের মাধ্যমেই জমা নেওয়া হইবে। সার্বিকভাবে বিষয়টি ইতিবাচক নিঃসন্দেহে। যুগের সহিত তাল মিলাইয়া আমরা নিজেদের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় উন্নীত করিতেছি—ইহা নিশ্চয়ই তাত্পর্যপূর্ণ। কিন্তু যেই কারণে একজন চালককে বা গাড়ির উপর জরিমানা ধার্য করা হয়—তাহা কমিবে কি? জরিমানা দেওয়ার মতো অপরাধ কেন একজন চালক করেন—তাহার উপর নির্ভরযোগ্য কোনো গবেষণা কী হইয়াছে ?

ট্রাফিক নিয়মকানুন না জানিয়া গাড়ি চালাইবার কোনো সুযোগ নাই। আর নিয়মকানুন জানিয়াও তাহা বারংবার অমান্য করিবার ক্ষেত্রে যেই বিশৃঙ্খল মানসিকতা বিপুলসংখ্যক মানুষের অস্থিমজ্জায় ঢুকিয়া আছে—তাহার সমাধান কি কেবল অর্থদণ্ডে সম্ভব? সুতরাং জরিমানা আদায়ে ই-সেবার পাশাপাশি জরিমানা আদায় করিবার ঘটনাই যেন সবচাইতে কম ঘটে—সেই ধরনের শিক্ষা ও প্রণোদনাও জরুরি। অপরাধ না করিবার প্রণোদনা, সুনাগরিক হইবার জন্য যথাযথ সিভিক-সেন্স অর্জন করিবার ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হইলে বিশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক নিয়মকানুন মান্য করিবার ঘটনাও বৃদ্ধি পাইবে নিঃসন্দেহে। সুতরাং কেহ অপরাধ করিলে তাহার শাস্তির পথ সহজ করিবার পাশাপাশি অপরাধটিই যাহাতে সহজে না ঘটে—সেই দিকটিও অত্যন্ত গুরুত্বের সহিত ভাবিয়া দেখা দরকার। তাহা ছাড়া, আমাদের স্থাপত্য ও রাস্তাঘাটে রহিয়াছে পরিকল্পিত ছাপের অভাব। একটি সুন্দর সুশৃঙ্খল নগরী গড়িয়া তুলিতে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরিকল্পনা করাটাও জরুরি বিশেষ।