ভেনিস যেন ভাসছে চোখের ওপর

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৫

সন্তোষ চন্দ্র নাথ

কল্পনা করা যায়, জলের ওপর ভাসমান অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে একটি শহর যার নাম ‘ভেনিস’। নীলাভ স্বচ্ছ জলের ওপর দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন প্রাচীন এক প্রাসাদপ্রতিম শহর, যার তলায় এঁকেবেঁকে কুলকুল শব্দে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর স্রোতধারা। স্বচ্ছ জলে দৃশ্যমান হবে প্রাচীন নান্দনিক শহরটির প্রাণকাড়া প্রতিবিম্ব, যেন হূদয় উজাড় করা শিল্পীর রংতুলির কারুকাজ খচিত এমন একটি ছবি, যেখান থেকে চোখ ফেরানো মুশকিল।

তথ্যানুযায়ী প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে দস্যুরা ঘোড়ায় চড়ে প্রায়শই ডাকাতি করত—ঐ অঞ্চলের মানুষ ডাকাতদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে আর এই দস্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য উপকূলবর্তী জনগণ এই অসংখ্য দ্বীপে ঘেরা জলাভূমিতে এসে ঘরবাড়ি তৈরি করতে শুরু করে এবং সেই দ্বীপপূর্ণ জলাভূমি থেকেই ভেনিসের যাত্রা শুরু। ভূমধ্যসাগরের বুকে গড়ে ওঠা এই সুন্দরতম ভাসমান শহরের আয়তন ৪১৫ বর্গ কিলোমিটার এবং দীর্ঘ আয়তনবিশিষ্ট এই সুন্দরতম শহরটির অবস্থান ইতালিতে। ১১৮টি দ্বীপের এই শহরটিতে অলিগলির ১৭৭টি খাল সৌন্দর্যের এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। এই খালগুলির মাঝে সেতুবন্ধ রচনা করেছে ৪০৯টি অপরূপ সেতু, যেন প্রতিটি দ্বীপ একে অপরের বন্ধু, আর একাধিকবার ভ্রমণ করেও সেতুর পরিচিতি মনে রাখা খুবই দুষ্কর। একবিংশ শতাব্দীতেও মোটর গাড়িহীন ও গাড়ির ধোঁয়াবিহীন শহর এই ভেনিস, যেখানে একমাত্র যানবাহন নান্দনিক কারুকার্যে খচিত অসংখ্য জলযান।

পৃথিবীর সর্বোচ্চ রোমান্টিক নগরীর তালিকায় ‘ভেনিস’ শীর্ষে অবস্থান করছে। বছরের ৩৬৫ দিনই পর্যটকের ভিড়ে ঠাসা থাকে সৌন্দর্যের রানি খ্যাত এবং সিটি অব লাভ অ্যান্ড লাইটস খ্যাত ভেনিস নগরী। সারা পৃথিবীর ঝাঁকে ঝাঁকে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণই যেন ভেনিস। শেক্সপিয়ারের সেই বিখ্যাত ‘মার্চেন্ট অব ভেনিস’ এবং অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ‘দ্য টুরিস্ট’ সিনেমার সেই চোখ ধাঁধানো শহর ইতালির ভেনিস নগরী। হলিউড-বলিউড সিনেমার শতশত রোমান্টিক দৃশ্যের গান এবং শুটিংয়ে যে শহরের সৌন্দর্যমণ্ডিত রূপরাশি ফুটে উঠেছে, সে শহরটি মানুষের হূদয় আকুল করা ভেনিস।

এক কথায় ভেনিসের মতো নান্দনিক রহস্যঘেরা শহর পৃথিবীতে খুব কমই আছে, পর্যটকেরা যেমনি অভিভূত তেমনি কৌতুহলের শেষ নেই। ভেনিসে নেই কোনো কোলাহল, নেই কোনো যান্ত্রিক ব্যস্ততা, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির চাদর বিছিয়ে রাখা পুরো শহর ঘুরে না বেড়ালে সত্যি বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা খুবই মুশকিল। ভেনিসে সৌন্দর্যের অবগাহন আর নান্দনিকতার মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলার প্রচুর উপাদান সারা বছরই বিদ্যমান। ২০১৫ সালে বেশ কয়েকজন বন্ধু মিলে ভেনিসের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত, এ খাল থেকে সে খাল, এক ব্রিজ থেকে অন্য ব্রিজে ঘুরে বেড়িয়েছি—মনে হচ্ছে ভেনিস যেন চোখের ওপর ভাসছে। এত ঘোরাঘুরি করেও ভেনিস শহরটির অবকাঠামো তৈরির রহস্য ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেল—শুধু ভেনিসের সৌন্দর্যের শীতলতার পরশ অবগাহন করেছি মাত্র। 

n লেখক : প্রাবন্ধিক