রাঙ্গামাটি

৩ দিন অকটেন ও ৩ দিন ডিজেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৮:৩২

রাঙ্গামাটিতে নতুন নিয়মে রুটিন করে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু করেছে ফিলিং স্টেশনগুলো। সোমবার (২৯ মার্চ) শহরের সবকটি পাম্প থেকে একযোগে জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে দেখা গেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিরার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১ পর্যন্ত গণপরিবহন ও সাধারণ মানুষ, এবং বেলা ২ টা থেকে ৩ পর্যন্ত সরকারি গাড়ি ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবে। অন্যদিকে শনি সোম ও বুধবার একই নিয়মে অকটেন ও পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারবে। গত শনিবার বিকাল থেকে এই নতুন নিয়ম চালু করে জেলা প্রশাসন।

এরই প্রেক্ষিতে রাঙ্গামাটিতে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও অবৈধ মজুদ ঠেকাতে রুটিন অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিক্রি করায় শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে ফিলিং স্টেশনগুলোতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শহরের তেলের পাম্পগুলোকে অকটেন/পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে।

পাম্পগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাম্পে শৃঙ্খলা ফেরার সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনী রাঙ্গামাটি  সদর জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাতসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

শহরের পাম্প ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই গ্রাহকেরা ট্যাংক, গ্যালন ও প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে লাইনে দাঁড়ানো শুরু করেছেন। যদিও সকাল ৯টা থেকে এসব পাম্পে ডিজেল বিক্রি শুরু করা হয়। এরপরও আগেভাগে সিরিয়াল পেতে অনেকেই ভোরে পাম্পে এসে হাজির হয়েছেন। তবে সকাল ৯টার পরিবর্তে সকাল ৮টা থেকে শুরুর দাবি করেন অনেকে। তাদের দাবি এতে অফিসগামী মানুষের সুবিধা হবে। এতে মানুষের কর্মঘণ্টা বাঁচবে। 

অন্যদিকে রাঙ্গামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা জানান, রাঙ্গামাটি জেলার ১০ উপজেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে নৌ চলাচল, কৃষি জমিতে সেচ কাজ ও পর্যটন মৌসুম হওয়ায় কিছু এলাকায় চাহিদা বেড়েছে।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, কাপ্তাই হ্রদে নৌপথে প্রায় ১০টি রুটে চলাচল করে প্রায় ৩০টি লঞ্চ। এতে দৈনিক ১২০০-১৫০০ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে এসব রুটে লঞ্চ চলাচলে দুই থেকে আড়াই দিন লঞ্চ চলাচলের মতো তেল মজুদ থাকলেও তেলের সংকটের কারণে পরবর্তী সময়ে আদৌ তেল পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা করছে মালিকরা। তারা ইতোমধ্যে বিআইডব্লিউটিএ, জেলা প্রশাসক, ইউএনওকে বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু খুব বেশি সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।

রাঙ্গামাটির বনরুপা ‘মেসার্স হিল ভিউ ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড পেট্রোল পাম্পের’ ব্যবস্থাপক মো. ইসমাইল বলেন, নতুন সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত জ্বালানি বিক্রি করছেন। ফলে স্বস্তিতে আছেন সবাই।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থা রাঙ্গামাটি জোনের চেয়ারম্যান মঈনুদ্দীন সেলিম বলেন, তেল যা মজুদ আছে। তা দিয়ে সর্বোচ্চ দুই থেকে আড়াই দিন চলবে। এর মধ্যে তেল পাওয়া গেলে তবেই লঞ্চ চলাচল করবে। না হয় চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য আমরা বিআইডব্লিউটিএসহ বিভিন্ন সংস্থাকে অনুরোধ করেছি।

জ্বালানি তেলের সরবরাহ তদারকিতে গঠিত ভিজিল্যান্স টিমের জেলা আহ্বায়ক ও জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন বলেন, পরীক্ষা মূলকভাবে রুটিন পদ্ধতিতে বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে। পাশাপাশি পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার, পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এপি