জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পুলিশ সদস্যের বাড়ি ভাঙচুর

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ২০:৩২

ঢাকার কেরানীগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক পুলিশ সদস্যের বাড়ি ও দোকানঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক কৃষকদল নেতা ও তার ছেলেল বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে।

রোববার (২৯ মার্চ) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন হযরতপুর ইউনিয়নের আলীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগকারী পুলিশ সদস্য কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম, তিনি গাজীপুর পুলিশ লাইনে কর্মরত। অপরদিকে অভিযুক্ত নুর ইসলাম হযরতপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষকদল সভাপতি, তার ছেলে তুষার একই ইউনিয়নের যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং অপর ছেলে নিরব সাবেক ছাত্রদল সভাপতি।

একই দিনে শফিকুল ইসলামের বাবা জজ মিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অপরপক্ষে নুর ইসলামের ছেলে তুষার ইসলামও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শফিকুল ইসলাম ও নুর ইসলাম আত্মীয়। পৈত্রিক সূত্রে প্রায় ৫৪ শতাংশ জমিতে শফিকুলের বাবা জজ মিয়া, চাচা আমজাদ মিয়া ও লাট মিয়ার পরিবার দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছে। 

তবে নুর ইসলামের দাবি, তিনি ও তার পরিবারই ওই জমির বৈধ মালিক।

কনস্টেবল শফিকুল ইসলামের অভিযোগ করে বলেন, একটি জাল দলিল বানিয়ে আমাদের পৈত্রিক জমি নামজারি করে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা আদালতে মামলা করেছি এবং সেটি বিচারাধীন। আদালত থেকে স্থিতাবস্থার (স্টে অর্ডার) নির্দেশনাও রয়েছে। এরপরও নুর ইসলাম ও তার লোকজন আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ভেকু দিয়ে আমাদের ও চাচার জমিতে থাকা দুটি দোকানঘর ভেঙে ফেলেছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এরপরও নুর ইসলাম ও তার লোকজন আমাদের পরিবারকে হুমকি-দুমকি দিয়ে যাচ্ছে। 

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে নুর ইসলামের ছেলে তুষার ইসলাম বলেন, শফিকুল ও তার পরিবার যে জমিতে বসবাস করছে, সেটি আমাদের বৈধ মালিকানাধীন। আমাদের কাছে জমির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। রোববার জমি বুঝে নিতে গেলে শফিকুলরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তখন এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে একটি ফাঁকা দোকান ও দেয়াল ভেঙে দেয়। এ বিষয়ে আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষই লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসজেএস