হাওরে ধান কাটা নিয়ে শঙ্কা, হার্ভেস্টার সংকটে খালিয়াজুরী

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৬, ১১:০০

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুম ঘনিয়ে এলেও ‘কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার’ সংকটে হাওরের কৃষকরা চরম উদ্বেগে রয়েছেন। বৈশাখের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পুরোদমে ধান কাটা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও প্রয়োজনীয় কৃষিযন্ত্রের অভাবে সময়মতো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এরই মধ্যে আবহাওয়া পূর্বাভাসে এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। ফলে হাওরের নিচু অঞ্চল দ্রুত প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা কৃষকদের মধ্যে অকাল বন্যার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা। বিশাল এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অন্তত ২০০টি সচল হার্ভেস্টার প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাঠে রয়েছে প্রয়োজনীয় সংখ্যার প্রায় অর্ধেক। সরকারি ভর্তুকির আওতায় খালিয়াজুরীতে ১৪৯টি হার্ভেস্টার বিতরণ করা হলেও জরিপে মাত্র ৮৬টি মেশিন সচল অবস্থায় পাওয়া গেছে।

খালিয়াজুরী সদরের কৃষক এনামুল হক ছোটন বলেন, ‘ধান কাটার সময় এসে গেছে, অথচ মেশিনের খবর নেই। প্রভাবশালী অনেকেই সরকারি ভর্তুকিতে কম দামে মেশিন নিয়ে অন্য জায়গায় বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন আমরা দিশেহারা।’

একই ধরনের অভিযোগ তুলে অনেক সাধারণ কৃষক বলছেন, ব্যক্তিগত লাভের আশায় মেশিনগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ায় সাধারণ চাষিরা ২০১৭ ও ২০২২ সালের মতো ভয়াবহ ফসলহানির শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

তবে মেশিন ক্রেতা ও মালিকরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে যান্ত্রিক ত্রুটি ও উচ্চ রক্ষণাবেক্ষণ খরচকে দায়ী করেছেন। ভর্তুকিতে মেশিন পাওয়া একাধিক 
মালিক জানান, ‘সরবরাহকৃত হার্ভেস্টারগুলোর মান অত্যন্ত দুর্বল এবং এগুলো দুই বছরের বেশি টেকসই হয় না। তাদের দাবি, হাওরের কাদা ও প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে যন্ত্রাংশ দ্রুত বিকল হয়ে পড়ে।’ 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেশিন মালিক বলেন, ‘এ মেশিন মেরামত করা এখন হাতি পালার চেয়েও বেশি দুঃসাধ্য ও ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুচরা যন্ত্রাংশের দুষ্প্রাপ্যতা আর মিস্ত্রি খরচের ধাক্কা সইতে না পেরে অনেক মালিকই মেশিনগুলো পরিত্যক্ত রাখতে বাধ্য হয়েছেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘২০ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটতে পর্যাপ্ত মেশিন দরকার হলেও বর্তমানে সবগুলো সচল নেই। তবে ধান কাটতে অন্যান্য উপজেলা থেকে মেশিন আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’  

এদিকে পাহাড় ঢলের পানিতে ধনু নদের তীরবর্তী প্রায় ১৪ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে কৃষি বিভাগ, যা কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম এ বিষয়ে বলেন, ‘সরকারি ভর্তুকির মেশিন কেউ নিয়মবহির্ভূতভাবে সরিয়ে নিলে বা বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকের ফসল রক্ষায় প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।’

ইতেফাক/আরএইচ/এএইচপি