প্রথম ভিডিওতে এমপিকে কটূক্তি, আরেকটিতে হাত জোড় করে ক্ষমাপ্রার্থনা

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৮

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। প্রথম ভিডিওতে স্থানীয় একদল কৃষক সংসদ সদস্যকে (এমপি) নিয়ে সমালোচনা করতে দেখা যায়। পরদিন ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে তাদের মধ্যে তিনজনকে আগের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে দেখা যায়।

তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরসংলগ্ন শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের লামাগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তাহিরপুর সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল।

প্রথম ভিডিওটি গত সোমবার রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, লামাগাঁও গ্রামের কৃষক আজিজুল ইসলাম (৪২), আশ্বাব উদ্দিন (৫৫), রাসেল আহমদসহ (৪০) কয়েকজন হাওরে দাঁড়িয়ে জলাবদ্ধতায় ফসলের ক্ষতির কথা তুলে ধরে এমপির সমালোচনা করছেন। একপর্যায়ে কৃষক আজিজুল ইসলামকে এমপির উদ্দেশে কটূক্তি করতেও শোনা যায়।

ভিডিওটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে মঙ্গলবার রাতে ওই কৃষকদের তিনজনের আরেকটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। সেখানে তাদের একটি ঘরে দাঁড়িয়ে হাতজোড় করে এলাকাবাসী ও এমপির কাছে আগের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। তবে প্রথম ভিডিওতে কৃষকদের মধ্যে মুখে হাসি থাকলেও দ্বিতীয় ভিডিওতে তাদের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ লক্ষ্য করা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় টাঙ্গুয়ার হাওরের বিভিন্ন এলাকার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তবে একজন এমপিকে এভাবে কটূক্তি করা ঠিক হয়নি, এমন মতও দিয়েছেন অনেক বাসিন্দা। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, কৃষকদের দিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভিডিওটি বানানো হয়েছে।

লামাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য মিসবাহ উদ্দিন জানান, নজরখালি এলাকায় পানি ঢুকে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এর আগে কলমার হাওরের একটি বাঁধ ঝুঁকিতে পড়লে গ্রামবাসী এমপির সঙ্গে দেখা করেন এবং তিনি জরুরি মেরামতের জন্য দেড় লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন। পরে স্থানীয় লোকজন কাজ করে ওই হাওরের ফসল রক্ষা করেন।

মিসবাহ উদ্দিন আরও বলেন, প্রথম ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কৃষকেরাই এমপির কাছে ক্ষমা চাইতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তাদের ক্ষমা চাওয়ার ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

এ বিষয়ে আজ বুধবার দুপুরে কৃষক আজিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি।

এমপি কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছুই জানি না। পরে শুনেছি। একজন এমপিকে ঘিরে সমালোচনা থাকতেই পারে। এ থেকে আমার অনেক কিছু শেখা এবং নিজেকে শোধরানোর সুযোগ আছে। আমি এটাকে ইতিবাচকভাবেই দেখি।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সুনামগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক ও কলেজশিক্ষক ফজলুল করিমের মতে, দরিদ্র কৃষকদের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে এমন নোংরা রাজনীতি কখনো কাম্য নয়। হাওরডুবিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ব্যক্তির কোনো গাফিলতি থাকলে মার্জিত ভাষায় প্রতিবাদ বা আন্দোলন করা যায়। যারা এই দিশাহারা কৃষকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে এমন বক্তব্য দিতে প্ররোচিত করলেন এবং কৃষকদের ক্ষমা চাইতে বাধ্য করলেন—দুটোই খতিয়ে দেখা দরকার।

 
ইত্তেফাক/এমএসআর