দায়িত্ব গ্রহণের পর সীমিত বাজেট থাকা সত্ত্বেও নগরবাসীর সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নগর ভবনের অডিটরিয়ামে ডিএসসিসির গত মার্চ মাসের কার্যক্রম সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশাসক একথা জানান।
দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে নগরবাসীর সেবা ও উন্নয়নে কি কি কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী দিনে কোন কোন কার্যক্রমের মাধ্যেমে নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করা হবে তাও তুলে ধরেন প্রশাসক।
প্রশাসক আবদুস সালাম জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং ঢাকা দক্ষিণকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করাই তার লক্ষ্য বলেও জানান প্রশাসক।
ডিএসসিসি নিজস্ব নার্সারি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০টি পার্ক-উদ্যান, ১৩টি খেলার মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। জিরো পয়েন্ট থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রশাসক জানান, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা এক মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩৩টি জলাবদ্ধ হটস্পট চিহ্নিত করে পাম্প স্টেশন ব্যবহার, জরুরি সাড়া দল গঠন এবং ছয়টি পোর্টেবল পাম্প প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নাগরিক সেবা সহজ করতে কবরস্থান ও শ্মশানঘাটের রেজিস্ট্রেশন ফি কমিয়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্দিক বাজারে কমিউনিটি সেন্টার উদ্বোধন এবং মহান স্বাধীনতা দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা আয়োজন করা হয়েছে।
প্রশাসক জানান, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল্ডে “ঢাকা রিসোর্স সার্কুলেশন পার্ক” নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। ১০০ একর এলাকা থেকে ল্যান্ডফিল গ্যাস আহরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বছরে ১৫ হাজার টন মিথেন সংগ্রহ করে প্রায় ৮১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সৌরশক্তি ব্যবহার করে আরও ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি মশক নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ ১০টি ওয়ার্ডে বিশেষ কার্যক্রম, আধুনিক যানবাহন সংগ্রহ, চালক-মেকানিক প্রশিক্ষণ, নিউমার্কেট এলাকায় আধুনিক ফুটওভার ব্রিজ উদ্বোধন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
