ফরিদপুরের সালথায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে অন্তত ৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বাতাগ্রাম এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাতাগ্রাম এলাকার হেমায়েত মাতুব্বরের সঙ্গে প্রতিপক্ষের মো. ফারুক মাতুব্বরের সমর্থক বাচ্চু চোকদারের বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিরোধপূর্ণ জমি মেপে সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। কিন্তু জমি মাপামাপির সময় উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায় উভয়পক্ষের অন্তত ২০০ থেকে ৩০০ সমর্থক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ।
সংঘর্ষের সময় মেহেদী মুন্সী, মিন্টু মুন্সী, সেলিম মুন্সী, হালিম মীর, মান্দার শেখ, মিজা, সেলিম চোকদার ও আসাদ শেখের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে আব্বাস মাতুব্বর, তমিজদ্দিন মাতুব্বর, আসাদ শেখ, রাজ্জাক শেখ, পিকুল মাতুব্বর, লিটন মীর ও আলিম মীরকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ফারুক মাতুব্বরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি করে আসছি। কাগদী বাজরে একটি বিএনপির অফিস পরিচালনা করে আসছি। জমি মাপাকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হেমায়েত মাতুব্বর বলেন, বিষয়টি আমি জানি না।
সালথা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক বলেন, ৯৯৯-এ সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকার পরিবেশ এখন শান্ত। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
