রাতে টর্চ জ্বালিয়ে ২ গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের মুড়াহাটি ও নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বুড্ডা গ্রামের লোকজনের মধ্যে পূর্ববিরোধের জেরে রাতের আঁধারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে টর্চ জ্বালিয়ে তারা এ সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া ও স্থানীয় পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বুড্ডা গ্রামের শেখ বংশ ও মৃধা বংশের মধ্যে সংঘর্ষে শেখ শামসুদ্দিন (৬০) নিহত হন। এ ঘটনায় তার ছেলে শেখ আবুল হাশেম বাদী হয়ে ৩১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। কয়েক বছর ধরে মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য আসামিপক্ষ বাদীপক্ষকে চাপ দিত। ঈদুল ফিতরের পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়।

ঈদের পরদিন বাদীপক্ষের বসতবাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আসামিপক্ষ বাধা দেয়। এর জের ধরে মুড়াহাটি ও বুড্ডা গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। মুড়াহাটি গ্রামের পাশে শাহবাজপুর ইউনিয়নের বন্দেরহাটি গ্রামের লোকজনও অংশ নেন। মুড়াহাটি গ্রামের নেতৃত্বে ছিলেন ওয়ার্ড সদস্য আরিজ মিয়া, অন্যদিকে বুড্ডা গ্রামের নেতৃত্বে ছিলেন শেখ রাকিব উদ্দিন।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন, পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম তালুকদার, এসআই ফারুক আহমেদ, এএসআই ইউনুছ গাজী, এএসআই সুলতান হোসাইন, এএসআই আরিফিন জাহান।

ঘটনার পর পুলিশ এসআই সুজন চন্দ্র মজুমদার বাদী হয়ে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে ১২০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, “আগের একটি খুনের ঘটনা থেকে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। এখন এলাকার অবস্থা শান্ত রয়েছে। বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”

ইত্তেফাক/এএম