মাওয়া ছাড়া নাব্য সংকট দেখছে না বিআইডব্লিউটিএ

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ২২:০৬

আসন্ন ঈদে মাওয়ার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী (মাদারীপুর) ফেরি রুট ছাড়া  দেশের অন্যান্য নৌপথে নাব্য সংকট দেখছে না সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সংস্থাটির মতে, যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে এমন নৌপথগুলোতে সর্বনিম্ন ১০ ফুট গভীরতা রয়েছে। তবে বন্যায় উজান থেকে আসা পলি জমা হওয়া ও নদীভাঙনের কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটের লৌহজং টার্নিং পয়েন্ট চ্যানেলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তাই বিকল্প রুটে ফেরি চলছে। তবে তীব্র স্রোত থাকায় ফেরির স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। আর লঞ্চ চলছে আগের রুটেই। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে যাতায়াতের আরেক নৌরুট পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় নাব্য সংকট নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ঈদ প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিভিন্ন সভায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সরকারি আরেক সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা গেছে, ঈদে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে ১৮টি ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ২০টি ফেরিতে গাড়ি পারাপার করা হবে। ঢাকা-বরিশাল-মোরেলগঞ্জ রুটে চলাচল করবে পাঁচটি যাত্রীবাহী জাহাজ। এছাড়া উপকূলীয় এলাকাগুলোতে যাত্রীবাহী জাহাজ ও সি-ট্রাক চলাচল অব্যাহত রাখা হবে।এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তি বিশ্বাস ইত্তেফাককে বলেন, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় পদ্মা নদীর দুই পাড়ে কিছু ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। যাত্রী ও পশুবাহী গাড়ি অগ্রাধিকার দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় সুন্দরভাবে গাড়ি পারাপার করা হচ্ছে। কোনো সমস্যা নেই। তিনি বলেন, আমরা নৌবিজ্ঞপ্তি দিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছি। সব নৌযান ও গাড়িকে ঐ নৌবিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে অনুরোধ করছি।

নৌপথের নাব্য সমস্যার বিষয়ে বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি ও পারাবত লঞ্চের মালিক মো. শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ঢাকা-বরিশাল রুটের মিয়ারচর নামক চ্যানেলে একটি জাহাজ দীর্ঘদিন ধরে ডুবে রয়েছে। ডুবন্ত জাহাজের কারণে সেখানে পলি জমছে। এতে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, ছয় ফুট গভীরতা পেলে যাত্রীবাহী লঞ্চ সহজে চলাচল করতে পারে। বর্তমানে প্রধান প্রধান রুটগুলোতে বড়ো ধরনের নাব্য সমস্যা নেই। তবে মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে ছোটো ছোটো চর জাগছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর এম মাহবুব-উল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, পাটুরিয়া রুটে কোনো সমস্যা নেই। মাওয়ায় পলি বেশি আছে। প্রস্তুতি হিসেবে বিকল্প চ্যানেল খোলা হয়েছে। নাব্য ন্যূনতম ১০ ফিট। চ্যানেলটি ২.৬ কিলোমিটার লম্বা এবং চওড়া ৬০ থেকে ৮০ মিটার। দুটি ফেরি সহজে চলাচল করতে পারে। আশা করছি এবার কোনো ধরনের সমস্যা হবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটের মূল চ্যানেলে পলি জমে হঠাত্ করে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পহেলা আগস্ট বিকল্প চ্যানেল ফেরি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বিআইডব্লিউটিএর নিজস্ব ছয়টি ড্রেজার দিয়ে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করে এ চ্যানেলটি তৈরি করা হয়। বর্তমানে বিকল্প এ চ্যানেলে ফেরি চলাচল করছে। আর লঞ্চগুলো লৌহজং টার্নিং এলাকার পুরাতন চ্যানেল দিয়ে চলাচল করছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএসের পরামর্শ অনুযায়ী শুধু নতুন চ্যানেলটি ড্রেজিং করে সচল রাখা হচ্ছে।

অন্যদিকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি রুটের পাটুরিয়া প্রান্তে বর্তমানে সর্বনিম্ন গভীরতা রয়েছে ১৩ ফুট। আসন্ন ঈদুল আজহায় এ রুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচলে কোনো নাব্য সমস্যা দেখছে না বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি। তবে বন্যা বা ভারী বৃষ্টি হলে নদীভাঙনের কারণে ফেরিঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, দেশে সবচেয়ে বেশি যাত্রী চলাচল করে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে। এ রুটের সর্বনিম্ন গভীরতা রয়েছে ১২ ফুট। কোথাও ১০০ ফুটের বেশি গভীরতা রয়েছে। অন্যান্য রুটের মধ্যে ঢাকা-পটুয়াখালী নৌরুটে ১০ ফুট, পটুয়াখালী-গলাচিপা ১০ ফুট, ঢাকা- ভোদুরিয়া ১২ ফুট, মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম নদীবন্দরে ১৬ ফুট, বরিশাল নদীবন্দরে ১২ ফুট, পটুয়াখালী নদীবন্দরে ১২ ফুট, ভৈরব-ছাতক রুটে সর্বনিম্ন ১৬ ফুট পানির গভীরতা রয়েছে। এসব নৌপথে লঞ্চ/স্টিমার, কার্গোসহ অন্য নৌযানসমূহ নির্বিঘ্নে চলাচল করছে।