পাটের শাড়ির নামে জালিয়াতি

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ২২:০৭

পাটের সুতা দিয়ে তৈরি শাড়ির বেশ প্রচারণা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে স্পিকারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীদের ঘটা করে এসব শাড়ি উপহারও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল এসব শাড়ি তৈরি করা হয়েছে জামদানির সুতা দিয়ে। ঘটনা এখানে থেমে থাকেনি। এসব শাড়ি তৈরির দায়িত্বে ছিলেন জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জেডিপিসি) পরিচালক সীমা বোস অধরা। এবার টনক নড়ল সংশ্লিষ্টদের। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গঠন করা হলো তদন্ত কমিটি। আর এ কমিটি বের করল পাটের শাড়ির প্রকৃত রহস্য। পরিণতিতে বরখাস্ত হলেন সীমা বোস অধরা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পাটের সুতা দিয়ে শাড়ি তৈরির চেষ্টা অনেক আগে থেকেই ছিল। কিন্তু জেডিপির কিছু উত্সাহী কর্মকর্তা সীমা বোসের নেতৃত্বে তড়িঘড়ি করে এই শাড়ি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে উদ্যত হন। সে অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্প নগরীতে রাত্রী আক্তার জামদানি হাউজকে এসব শাড়ি তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। যথাসময়ে তারা জামদানি সুতার শাড়ি জেডিপিসিকে সরবরাহ করে। রাত্রি আক্তার জামদানি হাউজের মালিক মো. আক্তার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, সীমা বোস আমাদের কাছ থেকে স্বল্পমূল্যে সুতার শাড়ি কিনে জেডিপিসিতে তা তিন থেকে চারগুণ দামে বিক্রি করে। এসব শাড়ি দিয়ে ভিআইপিদের সঙ্গে প্রতারণা করা করেছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসব শাড়ির বিলও আমাদের পরিশোধ করা হয়নি।

এদিকে, জেডিপিসির পরিচালক সীমা বোস ভুয়া সার্টিফিকেটের মাধ্যমে চাকরি নিয়েছেন বলে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় জানতে পেরেছে। জেডিপিসিতে তিনি যে বিবিএ সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন তা হচ্ছে দারুল এহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের। এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ২০০৬ সালে অবৈধ ঘোষণা করেছিল হাইকোর্ট। জানা গেছে, শাড়ি জালিয়াতিতে চাকরি থেকে বরখাস্ত হবার পর সীমা বোস চাকরি ফেরত পাবার জন্য নানা জায়গায় তদবির করছেন। এ ধরনের একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমা বোসকে আজ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে শুনানিতে ডাকা হয়েছে সীমা বোসকে।