চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে ভারতে পাচারের সময় ৪ শিশুসহ ৮ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দালালচক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন কৌশলে হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জীবননগর উপজেলার বেনীপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন অবৈধভাবে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বসবাস করতেন। ৭ থেকে ৮ মাস আগে তারা সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরে আসেন। পরে পুনরায় ভারতে প্রবেশের উদ্দেশ্যে যশোরের মনিরামপুর এলাকার এক দালালের মাধ্যমে জীবননগরের স্থানীয় দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দালাল চক্রটি তাদের ভারতে নিয়ে ‘কার্টুন তৈরির ভালো চাকরি’ দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। এ জন্য মোট ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চুক্তি করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে গিয়ে দালালরা ভিকটিমদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন কৌশলে হাতিয়ে নেয়। এ সময় ভিকটিম রাকিব মোল্লাকে মারধরও করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে ও দুই দালাল সদস্যকে আটক করে।
আটককৃতরা হলেন—ইসরাফিল (৩২) এবং মো. উজ্জ্বল হোসেন (৪০)। তারা উভয়েই জীবননগর উপজেলার বেনীপুর মাঠপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
উদ্ধার হওয়া ৮ জনের মধ্যে ৪ জন শিশু রয়েছে। তারা সবাই নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার দোহা মল্লিকপুর (পূর্বপাড়া) এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, একটি দালাল চক্র কয়েকজনকে ভারতে পাচারের চেষ্টা করছে। খবর পেয়ে জীবননগর থানাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বেনীপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয় এবং দালাল চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
