ডিজেল সংকটে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বোরো ধান উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন ভান্ডারখ্যাত সিরাজগঞ্জের কৃষকেরা। চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়া এবং খোলা বাজারে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এতে আর্থিক চাপের পাশাপাশি ফলন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে।
জ্বালানি সংকটের কারণে সেচ পাম্প সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ধানের শীষ বের হওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ নিশ্চিত না করতে পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ হাজার ৭০২ হেক্টর জমিতে ৩৬ হাজার ১১৭টি ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের হাড়িভাঙা চরের কৃষক রেজাউল করিম বলেন, ডিজেল সংকটের কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। বাইরে থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। ধান এখন থোড় অবস্থায় রয়েছে, কিছু ক্ষেতে শীষ বের হচ্ছে। এ সময়ে সেচ দিতে না পারলে ধান চিটা হয়ে যাবে এবং ফলন কমে যাবে।
তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান ও ৩০ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। প্রতিদিন প্রায় ১২ লিটার ডিজেল লাগে সেচ দিতে। সম্প্রতি ১৩০ টাকা দরে ডিজেল কিনতে হয়েছে, যা আগে ১০৫ টাকা ছিল। এভাবে চলতে থাকলে ফসল ঘরে তোলা কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস. এম. নাসিম হোসেন বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ডিজেলের ব্যবস্থা করা হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ. কে. এম. মনজুরে মাওলা জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও সেচ পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। কৃষকদের তালিকা তৈরি করে কার্ডের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চরাঞ্চলের কৃষকেরা ডিজেল পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের একটি অংশ পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে অনেক কৃষকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কৃষকেরা সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে তাদের কার্ড দেওয়া হবে এবং ডিজেল সংগ্রহে সহায়তা করা হবে।
