মাত্র ছয় মাসের মাথায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সভাপতি করে নতুন অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করেন ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান।
এনএসসির অধীনে থাকা ৫২টি ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে বিসিবিও একটি। তবে বিসিবির গঠনতন্ত্রে অ্যাডহক কমিটির সরাসরি উল্লেখ না থাকায় হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অ্যাক্ট ২০১৮–এর ধারা ২১ অনুযায়ী, কোনো ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হলে বা সংস্থার স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সেই কমিটি ভেঙে দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠনের ক্ষমতা রয়েছে এনএসসির।
সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল এহসান বলেন, বিসিবির গঠনতন্ত্রের ৯.৩.৩ ধারা অনুযায়ী সভাপতি এককভাবে ১০ জন সাবেক ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর মনোনয়ন দিতে পারেন না। কিন্তু বুলবুল এই ক্ষমতার বাইরে গিয়ে একতরফাভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা সংবিধান লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার।
উল্লেখ্য, বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় দল ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অংশ নেওয়া সাবেক খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে ১০ জনকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত করা যায়, তবে তা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই করতে হয়।
এনএসসি আশা করছে, ক্রিকেটের সার্বিক উন্নয়ন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনমনে থাকা সন্দেহ দূর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এই অ্যাডহক কমিটিকে স্বীকৃতি দেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ক্রীড়া পরিচালক।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিসিবির প্রশাসনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো, যা দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

