লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে আলী হোসেন (৩৮) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলী হোসেন পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি পানিয়ারটারী এলাকার বাসিন্দা। তিনি আব্দুল গফুরের ছেলে। তাঁর পরিবারে স্ত্রী, এক মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় লোকজন, সীমান্ত সূত্র ও বিজিবি জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার সাতগ্রাম সীমান্ত এলাকা এবং লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি গ্রামের পানিয়ারটারী সীমান্ত এলাকা সংলগ্ন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৭৪-এর ৫ নম্বর উপপিলারের কাছ দিয়ে ভারতের গরু পারাপারকারীদের সহায়তায় বাংলাদেশি ৭ থেকে ৮ জন ব্যক্তি ভারতের প্রায় ২০০ গজ ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভারতীয় ফালাকাটা বিএসএফ সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের সাতমাথা ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে উভয় দেশের চোরাকারবারীরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলেই আলী হোসেন নিহত হন। নিহতের লাশ বিএসএফ ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।
গুলির ঘটনার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)-এর ধবলগুড়ি ক্যাম্পের টহল দল সীমান্তে যায় এবং পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে আহ্বান জানায়। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় ওই সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৭৫-এর ১ নম্বর উপপিলারের নিকটে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে প্রায় ২০ মিনিটব্যাপী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভারতের পক্ষে ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ফালাকাটা বিএসএফ সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট মিস্টার সৌরভ। বাংলাদেশের পক্ষে ১০ সদস্যের দল নিয়ে অংশ নেন ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সৈয়দ ফজলে মুনীম।
বিজিবি জানায়, স্পট বৈঠকে বিএসএফকে সীমান্তে গুলি করে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বিএসএফ জানায়, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতরা ভারতের ভেতরে ঢুকে বিএসএফ সদস্যদের ওপর আঘাত করে। আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ গুলি চালায়। এতে এ অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় বিএসএফ কমান্ড্যান্ট দুঃখ প্রকাশ করেন। বর্তমানে নিহতের লাশ মাথাভাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ লাশটি মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গেছে।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমার ভাই বিএসএফের গুলিতে মারা গেছে। রাতে সীমান্তে গিয়েছিল—এটা মানুষের কাছে শুনেছি। সেখানে ঠিক কী হয়েছে, জানি না।’
এ বিষয়ে জোংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, ‘রাতে সীমান্তে গুলির ঘটনা ঘটে। শুনেছি, আলী হোসেন নামে আমার ইউনিয়নের একজন ব্যক্তি গুলিতে মারা গেছেন।’
৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, ‘বিএসএফের গুলিতে নিহতের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। তাঁরা (বিএসএফ) দুঃখ প্রকাশ করেছে। সেক্টর ও রিজিয়ন সদর দপ্তরের পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ ফেরত আনার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।’

