আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে র‍্যাবের অভিযান, দালাল চক্রের ১৪ সদস্য আটক

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৩০

রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে সাধারণ গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের ১৪ জন সদস্যকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে র‍্যাব-২ এর নেতৃত্বে এই মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। 

পাসপোর্ট করতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের প্রতারণা বা মধ্যস্বত্বভোগীদের খপ্পরে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতেই এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়েছে বলে র‍্যাব সূত্র নিশ্চিত করেছে। আটককৃতদের মধ্যে অপরাধের ধরন বিবেচনা করে ৬ জনকে পাঁচ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

অভিযান শেষে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, আটককৃতদের মধ্যে তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাকি সদস্যদের বিষয়ে এখনো নিবিড় তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পাসপোর্ট অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষকে দ্রুত পাসপোর্ট পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। অনেক ক্ষেত্রে টাকা নিয়েও পাসপোর্ট না দেওয়া বা জাল কাগজপত্র সরবরাহের মাধ্যমে গ্রাহকদের হয়রানি করার অসংখ্য অভিযোগ পাওয়ার পর র‍্যাব এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

পাসপোর্ট অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা র‍্যাবের এই দালালবিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এ ধরনের নিয়মিত অভিযানের ফলে পাসপোর্ট অফিসে গ্রাহক হয়রানি অনেকাংশেই কমে আসবে এবং দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে। 

কর্মকর্তারা গ্রাহকদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে দালালের সাহায্য না নিয়ে নিজেরাই সরাসরি ফরম পূরণ এবং ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া উচিত। সেবাগ্রহীতারা সচেতন হলে দালাল চক্রের কার্যক্রম পুরোপুরি নির্মূল করা সহজ হবে বলে তারা মনে করেন।

আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে গড়ে ওঠা দালাল চক্রের বিরুদ্ধে র‍্যাবের এই তৎপরতা ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদানের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। র‍্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সেবা প্রাপ্তি সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলোতেও পর্যায়ক্রমে এমন নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

ইত্তেফাক/টিএইচ