দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সোয়া ঘণ্টার শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে ছিন্নভিন্ন হয়ে আম, লিচু, ভুট্টা ও খেতের ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিলার আঘাতে শতাধিক ঘরবাড়ির টিনের চালা ঝাঁজরা হয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে বিকাল পৌণে পাঁচটা পর্যন্ত সোয়া ঘণ্টাব্যাপী ফুলবাড়ী উপজেলার ১ নম্বর এলুয়ারি ইউনিয়নের ৯টি গ্রামে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে আম, লিচু, ভুট্টা ও খেতের আগাম ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বড় বড় শিলার আঘাতে গ্রামের ঘরবাড়ির টিনের চালা ঝাঁজরা হয়ে গেছে। শিলার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে আম, ভুট্টা ও লিচুগাছের পাতা। খেতের মধ্যেই ঝরে গেছে আগাম ইরি-বোরো ধান।
শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে আম, লিচু, ভুট্টাসহ আগাম ইরি- বোরো ধানের পাশাপাশি ঘরবাড়ির টিনের চালা ঝাঁজরা হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। উপজেলার এলুয়ারি ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পানিকাটা গ্রামের আনোয়ার সাদাত বলেন, শিলাবৃষ্টিতে অনেক ঘরের টিনের চালা ঝাঁজরা হয়ে গেছে। একই গ্রামের সোলেমান হোসেন বলেন, শিলাবৃষ্টিতে তার আড়াই বিঘা জমির আগাম ধান ঝরে পড়েছে। এখন ঐ জমি থেকে এক কেজি ধানও পাবেন না বলে জানান তিনি।
পুটকিয়া গ্রামে মোকছেদ আলী বলেন, শিলাবৃষ্টিতে তার পাঁচ বিঘা জমির ধানগাছের ধান ঝরে পড়েছে। শিলার আঘাতে পুরো খেতের ধানগাছেরই মাজা ভেঙে গেছে। এদিকে শিলার আঘাতে লিচুর গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একইভাবে শিলার আঘাতে আমগাছেরও আম ও গাছের পাতা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। শিলার আঘাত সহ্য করতে না পেরে গাছে আমের গুটিগুলো পড়ে গেছে। এলুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নবিউল ইসলাম বলেন, শিলার তাণ্ডবে এলাকার ধানের খেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, গাছপালার ফল ও পাতা ছিন্নভিন্নসহ গাছের ছালও উঠে গেছে পাথরের আঘাতে। ঘরবাড়ির টিনের চালা ঝাঁজরা হওয়ায় এলাকার অধিকাংশ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলার এলুয়ারি ইউনিয়নের বানাহার, ঊষাহার, জগন্নাথপুর, শিবপুর, পানিকাটাসহ চারটি ওয়ার্ডের ঘরবাড়ি, আম ও লিচুর গাছপালাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই মুহূর্তে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। নিরূপণকাজ শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে বলা যাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। নিরূপণ কাজ শেষ হলে বলা যাবে শিলার আঘাত কতটুকু ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এ মুহূর্তে বলা যায় ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, শিলার তাণ্ডবে এলাকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক। সেজন্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হবে। শিলার আঘাতে ঘরবাড়ি, আম, লিচুর ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি ফসলের মাঠ বিনষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষক সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ ঝোড়োবৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানের গাছ ও ডালপালা ভেঙে পড়েছে। যান চলাচলেও কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। এদিকে, কালবৈশাখী ও বৃষ্টির সময় তিন তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মকলেছুর রহমান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হয়।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, জেলায় ৬০ হেক্টর বোরো ধান, ৪১ হেক্টর কলা, ১১ হেক্টর পেঁপে, পাঁচ হেক্টর আম, ১২ হেক্টর সবজি এবং তিন হেক্টর পানবরজের ক্ষতি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল জানান, প্রবল ঝড়ে মনোহরপুর গ্রামের তিনটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদেরকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী, দুই বান্ডিল ঢেউটিন এবং প্রতি বান্ডিল ঢেউ টিনের অনুকূলে ৩ হাজার টাকা করে ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
