অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ’ বাতিল, ফিরছে পুরনো আইন

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:০৩

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা জাতীয় ‘মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ রহিত করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন করে আনা বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে বিরোধী দলের আপত্তির মুখে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বিলটি উত্থাপনের বিরোধিতা করে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ) বলেন¸ ‘মাননীয় স্পিকার, আজ যে আইনটি পাশ করানোর কথা বলা হচ্ছে, এর মাধ্যমে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনকে পুনর্বহাল করা হবে। কিন্তু গত ১৭ বছরে আমরা দেখেছি, এই কমিশন বিরোধী দল ও মত দমনের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই আইন শুধু মানবাধিকার কমিশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ এবং দায়মুক্তির বিষয়গুলোর সঙ্গেও সম্পর্কিত। এটিকে বাতিল করা হলে অন্যান্য অধ্যাদেশগুলোও কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে।’

হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরোধিতার জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য খুব সুন্দর সুন্দর বক্তৃতা দিয়েছেন। বক্তৃতাগুলো পল্টন ময়দান, প্রেস ক্লাব, ঢাকার রাজপথ কিংবা মুক্তাঙ্গনের জন্য অনেক বেশি জুসি এবং প্রাসঙ্গিক। কিন্তু আমার মনে হয়, উনি সব পড়েছেন—শুধু বিলটা পড়েননি। এই বিলটার প্রথম লাইনেই বলা আছে, যেহেতু মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আরও পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন, তাই ২০০৯ সালের আইনটি আপাতত পুনর্বহাল করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ সালের আইন বাতিল করার পর যাতে মানবাধিকার কমিশনের জায়গাটা ফাঁকা না থাকে, অসম্পূর্ণ না থাকে—সেই কারণেই আমরা সাময়িকভাবে আইনটি রিস্টোর করেছি।’

সমালোচকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যেন বলতে না পারে, বাংলাদেশে কোনো মানবাধিকার কমিশন নেই—সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুতরাং সব পড়লাম, কিন্তু প্রথম লাইনটাই পড়লাম না—এটা ঠিক নয়।’

উল্লেখ্য, বিলটি পাস হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রণীত ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নতুন করে কার্যকর হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি