‘ভুল’ চিকিত্সায় প্রসূতির মৃত্যু, সালিশে ১১ লাখ টাকায় রফা

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল চিকিত্সার অভিযোগে এক প্রসূতির মৃত্যু ঘটনাটির অবশেষে মীমাংসা হয়েছে। সামাজিক বিচার সালিশির মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রসূতির ঐ মৃত্যুর জন্য ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। গত বুধবার রাতে উপজেলা সদরের সৈনিক হোটেলে উভয় পক্ষের লোকজন ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ঘটনাটির নিষ্পত্তি হলো। ঐ সালিশি সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর এলাকার আলীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা, শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. খবির উদ্দিন।

খবির উদ্দিন মাস্টার এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, ‘সালিসি সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রসূতির ঐ মৃত্যুর জন্য ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে ৮ লাখ টাকা ঐ মৃত প্রসূতির নবজাতক পুত্র সন্তানের নামে ফিক্সড ডিপোজিট করা হবে। বাকি ৩ লাখ টাকা প্রসূতির স্বামী ও বাবার বাড়ির লোকজনকে সমান দেড় লাখ করে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তবে প্রসূতির স্বামীর বাড়ির লোকজন জরিমানার দেড় লাখ টাকা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি এই মীমাংসার পর কোনো পক্ষই আর এ নিয়ে মামলা করতে পারবে না বলেও সালিশি সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একজন প্রসূতির মৃত্যুর পাঁচ দিন পরও এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় মামলা করেনি, এটি আমার কাছে আশ্চর্যজনক লাগছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তেমন কিছু পাওয়া গেলে, পুলিশ অবশ্যই নিজে বাদী হয়ে মামলা করবে।’ এদিকে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় সিভিল সার্জনের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গতকাল দিনভর হাসপাতালটি পরিদর্শন করে।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রসূতি মৃত্যুর সঙ্গে কর্তব্যরত ডাক্তার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে, অবশ্যই প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এদিকে হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের  ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলা যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার মধ্যরাতে উপজেলার লাউর ফতেপুর গ্রামের সফিকুল ইসলামের স্ত্রী রাকিবা আক্তার (২০) উপজেলা সদরের আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে প্রসব ব্যথা নিয়ে ভর্তি হন। সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিত্সক সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে ঐ প্রসূতির রাতেই অস্ত্রোপচার (সিজার) হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠে, অস্ত্রোপচারের কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রসূতি পুত্র সন্তান জন্ম দিয়ে হাসপাতালেই মারা যান। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ স্বজনেরা পরদিন রবিবার সকালে হাসপাতালটিতে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

ইত্তেফাক/এএম