পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার উদ্দেশ্যে ইরানি প্রতিনিধি দলের পৌঁছানোর বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে তেহরান।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ওই সূত্রটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কিছু গণমাধ্যম দাবি করছে ইরানি আলোচক দল আমেরিকানদের সাথে আলোচনার জন্য ইতিমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে, যা প্রকৃতপক্ষে সম্পূর্ণ অসত্য। এর মাধ্যমে চলমান শান্তি আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করেছে তেহরান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রটি একই সাথে ইরানের বর্তমান অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হচ্ছে না, ততক্ষণ কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। সূত্রটির মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি লেবাননে শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয় এবং ‘জায়নবাদী শাসক গোষ্ঠী’ বা ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নির্বিচার হামলা অব্যাহত রাখে, তবে আলোচনা স্থগিতই থাকবে।
অর্থাৎ মাঠপর্যায়ে সামরিক আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কূটনৈতিক টেবিলে বসার কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই। তেহরানের এই অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, লেবাননের পরিস্থিতির ওপরই মূলত ইসলামাবাদ বৈঠকের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তীতে একটি স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, আলোচনার প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করতে ইরানি প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে অবতরণ করেছেন। তবে তাসনিম নিউজের এই প্রতিবেদন সেই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিল।
সূত্রটি ইঙ্গিত দিয়েছে, ইরান এখন কোনো তাড়াহুড়ো করতে চায় না এবং তারা মার্কিন প্রশাসনের সদিচ্ছা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বাস্তব প্রমাণ দেখতে চায়। বিশেষ করে লেবাননে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে তেহরান এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা এবং হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলার কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে আলোচনার খবর নাকচ করে দেওয়ার বিষয়টি ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সম্ভবত সামরিক ও কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেই দরকষাকষি করতে আগ্রহী। যতদিন লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ বন্ধ না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত তেহরান কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নেবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে ইসলামাবাদের প্রস্তাবিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
