দুশ্চিন্তায় পেঁয়াজ চাষিরা

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৪০

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পেঁয়াজের ভালো ফলন হয়েছে। বিঘাপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ মণ পর্যন্ত উৎপাদন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে প্রতিমণ পেঁয়াজ ৯০০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় কম হওয়ায় লাভ করতে পারছেন না তারা।

বাজারে দাম কম থাকায় অনেক কৃষক এখনো জমি থেকে পরিপক্ব পেঁয়াজ তুলছেন না। তারা পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার ধাপ গ্রামের কৃষক ফারুক মিয়া জানান, যমুনা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জেগে ওঠা জমিতে তিনি এ বছর ১১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এতে সার, সেচ, কীটনাশক, বীজ ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে তার ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ টাকার বেশি। ভালো ফলন হলেও বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হওয়ায় তিনি লাভের মুখ দেখছেন না।

তিনি বলেন, “অনেক কষ্ট করে চাষ করেছি। ফলন ভালো হলেও দাম না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছি। সরকার যদি প্রতিমণ পেঁয়াজের সর্বনিম্ন মূল্য ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করে, তাহলে কিছুটা লাভবান হতে পারব।”

উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক দুলাল কাজী জানান, তিনি প্রায় ৯ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলেও দাম কম থাকায় পেঁয়াজ উত্তোলনে দ্বিধায় রয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সারিয়াকান্দিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৬০০ হেক্টর, যার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪২০ হেক্টর জমির পেঁয়াজ উত্তোলন করা হয়েছে। গড় ফলন হয়েছে বিঘাপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ মণ।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, এলাকার বেলে দোআঁশ মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এবার ভালো ফলন হয়েছে। তবে বাজারে দাম কম থাকায় কৃষকরা কিছুটা হতাশ। তিনি কৃষকদের পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে পরে বিক্রির পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সংরক্ষণে সহায়তার জন্য কৃষকদের মাঝে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি