সংশোধিত শ্রম আইনে রয়ে গেছে অস্পষ্টতা, অসন্তোষের আশঙ্কা: বিকেএমইএ

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৫৪

সাম্প্রতিক শ্রম (সংশোধন) বিল ২০২৬ পাস হওয়াকে স্বাগত জানালেও আইনের কিছু ধারায় এখনও অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি রয়ে গেছে বলে মনে করছে নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ। তাদের মতে, এসব অস্পষ্টতা ভবিষ্যতে শ্রম অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ মন্তব্য করা হয়। এতে বলা হয়, আগের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আন্তর্জাতিক কিছু সংস্থার প্রভাবে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আইনের কিছু ধারায় জটিলতা তৈরি করেছিল, যা দীর্ঘমেয়াদে শিল্প খাতে অস্থিরতা বাড়াতে পারত। এতে শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয় এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমান সরকার কিছু সংশোধন আনলেও এখনো কিছু ধারা স্পষ্ট নয়। এর ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। শিল্পে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভবিষ্যৎ সংশোধনের মাধ্যমে এসব অস্পষ্টতা দূর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিকেএমইএ শ্রমিকদের অন্যায়ভাবে কালো তালিকাভুক্ত করাকে অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তির বিধানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে। পাশাপাশি তারা বলেছে, যদি কেউ শ্রমিক পরিচয়ে অবৈধ দাবি তুলে সহিংসতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা অবৈধ ধর্মঘটের মতো কর্মকাণ্ড ঘটায়, তবে সেগুলোকেও অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে বিবেচনা করে আরও কঠোর শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দূতাবাসগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, তারা যেন শুধু শ্রম আইন সংস্কারেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশি পোশাক সরবরাহকারীদের ন্যায্য মূল্য দিচ্ছে কি না—সেটিও নজরদারিতে রাখে। তা না হলে শেষ পর্যন্ত শিল্প ও শ্রমিক—উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম