প্রকৃতি

লজ্জাবতী

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৩১

 

মানুষেরই শুধু লজ্জা পায় তা নয়, গাছেরও যে লজ্জা থাকতে পারে বা আছে—এ কথা হঠাত্ করে শুনলে বিস্মিত হলেও আমরা অনেকেই গাছটির সঙ্গে পরিচিত। সামান্য স্পর্শ পেলে নেতিয়ে পড়ে। গুল্মজাতীয় ছোট গাছটির নাম লজ্জাবতী। এর পাতা স্পর্শ করলেই আশ্চর্যজনকভাবে তা বন্ধ হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। অত্যন্ত অনুভূতিসম্পন্ন এ গাছ। লজ্জাবতীর বোটানিক্যাল বা বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে মিমোসা পুডিকা। আদি নিবাস মধ্য আমেরিকার মেক্সিকোতে। তবে বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সবখানেই এ গাছ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে গাছটি বিভিন্ন নামে পরিচিত। বর্ষজীবী উদ্ভিদ। কাণ্ড খাড়া, শাখান্বিত এবং ছোট ছোট কাঁটা আছে। সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে ছোট ও গোলাকার ফুল ফোটে। ফুলের রং হয় গোলাপি ও সাদা। গাছের পাতাগুলো দেখতে ছোট এবং রং গাঢ় সবুজ। গাছটি দেড় থেকে দু ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়।

প্রাচীনকাল থেকেই লজ্জাবতী গাছ অনেক রোগের চিকিত্সায় ব্যবহার হয়ে আসছে। এর রয়েছে অনেক ভেষজগুণ। কাঁচা গাছ বেটে শরীরে লাগালে লাবণ্য ফিরে আসে। গাছ শুকিয়ে গুঁড়া করে ১০ গ্রাম গুঁড়া দু কাপ পানির সঙ্গে মিশিয়ে ১৫ দিন সেবন করলে চর্মরোগ সেরে যায়। ১০ গ্রাম পরিমাণ গাছের শিকড় বেটে এক কাপ ছাগলের দুধ ও দু কাপ পানি একত্রে মিশিয়ে গরম করে সকাল-বিকাল সেবন করলে অর্শ্বরোগে ভালো ফল পাওয়া যায়। এছাড়া কুষ্ঠ, বসন্ত, একশিরা, ভগন্দর ও পাণ্ডু রোগ নিরাময়েও লজ্জাবতীর রয়েছে বিরাট অবদান।

বেশিরভাগ মানুষের কাছে এ গাছ কাঁটাওয়ালা আগাছা হিসেবে পরিচিত হলেও থাই লজ্জাবতী গাছকে কাজে লাগিয়ে জৈব সারও তৈরি করা হচ্ছে। এ সার ফসলের জন্য যথেষ্ট উপযোগী। এতে রয়েছে নাইট্রোজেন ২.০৩-২.০৬ ভাগ, ফসফরাস ০.১৭৫-০.২৩ ভাগ, পটাশিয়াম ১.২৩৭-১.৭৪১ ভাগ। লজ্জাবতী গাছের শিকড়ে জন্মানো লালচে রঙের গুটি বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সঞ্চয় করে আমবাগানের মাটিতে সরবরাহ করে। এটি মাটির উর্বরতা বাড়ায়। থাইল্যান্ডে ভুট্টার জমিতে আগাছা নিয়ন্ত্রণে এভাবেই লজ্জাবতী গাছ লাগানো হয় এবং মাটির উর্বরতা ঠিক রাখা হয়।

আমাদের গ্রাম-গঞ্জে বাড়ির আনাচে-কানাচে একসময় প্রচুর দেখা যেত এ গাছ। বর্তমানে বাসস্থানের প্রয়োজনে এবং বন ধ্বংসের কারণে অসংখ্য প্রজাতির গাছপালার সঙ্গে লজ্জাবতী গাছটিও হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে এর গুণাগুণের কথা মাথায় রেখে কোনো কোনো বৃক্ষপ্রেমিক নিজ উদ্যোগে পারিবারিকভাবে নার্সারি তৈরি করে গাছটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন।