মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় মাদক উদ্ধার অভিযানের সময় মারধরে আকুব্বর (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তাদের দাবি, অভিযান চলাকালে মাথায় লাঠির আঘাতে তার মৃত্যু হয়। তাছাড়া এই ঘটনায় এক মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সদস্য আহত হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে বিনোদপুর ইউনিয়নের কানুটিয়া গ্রামের চরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মরদেহ ময়নাতদন্তের মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল অনুমান ১০টার দিকে মাগুরার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি টিম মাদক উদ্ধারের জন্য মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের কানুটিয়া গ্রামের চরপাড়া এলাকায় আকুব্বর নামে ওই যুবকের বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মাথায় লাঠির আঘাতে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবার অভিযোগ ওঠে। পরে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের ঘেরাও করে। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
আকুব্বর মোল্লার স্ত্রী জ্যোৎস্না খাতুন দাবি করেন, ১০-১২ জন লোক হঠাৎ তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে নিজেদের ‘ডিবির লোক’ পরিচয় দিয়ে তল্লাশি শুরু করে। তারা ঘরে কিছু না পেয়ে একপর্যায়ে আকুব্বরকে আটক করে মারধর করে।
জ্যোৎস্না খাতুন আরও বলেন, ‘সে (আকুব্বর) বারবার বলেছিল, ‘আপনারা আমারে মেরেন না, আমার কাছে কিছু নাই।’ আমি নিজেও অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু তারা শোনেনি। ঘরে কিছু না পেয়ে তারা প্লাস্টিকের পাইপ, লাঠি দিয়ে আমার স্বামীকে বাড়য়ে (আঘাত) মেরে ফেলে দিয়ে গেছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অভিযানে অংশ নেওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাহারা ইয়াসমিন জানান, পূর্বতথ্যের ভিত্তিতে ১১ সদস্যের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি থেকে প্রায় আধা কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
সাহারা ইয়াসমিন বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর তাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে আসার প্রস্তুতির সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবার থেকেও জানানো হয়, তিনি অসুস্থ। মানবিক কারণে আমরা হ্যান্ডকাফ খুলে দিই এবং তাকে রেখে বাইরে চলে আসি। আমরা বাইরে গাড়ির কাছে থাকাকালে শুনতে পাই, তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে আমাদের ওপর চড়াও হয় এবং গাড়ি ভাঙচুর করেন।’
সাহারা ইয়াসমিন আরও বলেন, ‘অভিযানের পুরো ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। কোথাও তাকে মারধরের ঘটনা নেই। আইন মেনেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।’
মহম্মদপুর থানার ওসি মোহাম্মাদ আশরাফুজ্জামান জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণের ১১ সদস্যের একটি টিম ঘটনাস্থলে মাদক উদ্ধারের জন্য গিয়েছিল। সেখানে হট্টগোলের খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ মাদক নিয়ন্ত্রণের ১১ সদস্যকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় কোনো পক্ষই মহম্মদপুর থানায় অভিযোগ করেনি।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ করেনি। এই ঘটনায় এক মাদক নিয়ন্ত্রণ সদস্য আহত হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই