ইরানের ওপর সীমিত সামরিক হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৩

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটাতে ইরানের ওপর পুনরায় সীমিত আকারে সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের পাশাপাশি এই বিমান হামলাকে আলোচনার টেবিলে তেহরানকে নমনীয় করার অন্যতম কৌশল হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, রোববার পাকিস্তানে আলোচনা ভেঙে পড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্পের সামনে এই সামরিক বিকল্পগুলো তুলে ধরা হয়। মূলত কূটনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে ইরানকে নতুন করে শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করতেই এমন কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে হোয়াইট হাউস।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের সামনে পূর্ণমাত্রায় বোমাবর্ষণ শুরু করার মতো বিকল্পও রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদী সামরিক যুদ্ধে জড়ানোর প্রতি প্রেসিডেন্টের অনীহার কারণে বড় ধরনের হামলার সম্ভাবনা আপাতত কম বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন। 

এর পরিবর্তে তিনি হরমুজ প্রণালিতে একটি সাময়িক নৌ-অবরোধ বজায় রাখার কথা ভাবছেন। একই সাথে তিনি মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন যাতে ভবিষ্যতে এই প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সময় দীর্ঘমেয়াদী সামরিক প্রহরার দায়িত্ব তারা গ্রহণ করে।

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প রোববারের বেশিরভাগ সময় মিয়ামিতে তার নিজস্ব রিসোর্টে কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানে কথা বলেন, গলফ খেলেন এবং তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের সাথে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। 

ট্রাম্পের সহযোগীরা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট এখনো একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছেন। তবে একই সাথে তিনি হরমুজ প্রণালি অবরোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার নতুন হুমকি দিয়েছেন। সামরিক ও কূটনৈতিক এই দ্বিমুখী চাপের মাধ্যমে তেহরানকে একটি ‘চূড়ান্ত চুক্তিতে’ সই করতে বাধ্য করাই এখন ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য।

হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র ট্রাম্পের বিবেচনাধীন এসব সুনির্দিষ্ট সামরিক বিকল্প নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ১০ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ট্রাম্পের এই নতুন সামরিক পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিয়েছে। 

বিশেষ করে যখন আঞ্চলিক দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন কঠোর অবস্থান শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সামরিক হামলার নির্দেশ দেন নাকি নতুন কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের চেষ্টা করেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ইত্তেফাক/টিএইচ