তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
মিহির রঞ্জন তালুকদার, প্রভাষক
বালাগঞ্জ সরকারি কলেজ, সিলেট।
সুপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় তোমাদের জন্য আজ থাকছে প্রথম অধ্যায় থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আশাকরি পত্রিকায় প্রকাশিত আলোচনাগুলো তোমাদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করা ছাড়াও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে অধিক জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করবে। যেহেতু এটি একটি টেকনিক্যাল বিষয় সেজন্য প্রতিটি বিষয়বস্তু বাংলা শব্দের সাথে সাথে ইংরেজি শব্দও জানতে হবে। যদিও অধিকাংশ শব্দই ইংরেজি তারপরও কোনো কোনো সময় দেখা যায় তোমরা কনফিউশনে থাক যেমন- আমি যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথা বলি যে, বিষয়টি ক্লাসে তোমাদেরকে পড়ানো হয়েছে এবং তোমরা ভালোভাবেই পার। পরীক্ষায় গিয়ে দেখলে তোমাদের প্রশ্ন আসছে Artificial Intelligence কী? অথবা সংক্ষিপ্ত আকারেও আসতে পারে AI কী? তোমাদের উত্তর জানা সত্ত্বেও তোমরা লিখতে পার না। কারণ তোমাদের পড়ানো হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী? এখন পরীক্ষায় আসছে AI কী? AI ই হচ্ছে Artificial Intelligence এর সংক্ষিপ্তরূপ এবং এর বাংলাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কাজেই তোমরা পড়ার সময় মনোযোগ সহকারে বিষয়গুলো আয়ত্তে আনতে হবে। মনে রেখ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়টি যদিও সবার জন্য আবশ্যিক কিন্তু এটি বিজ্ঞানের অংশ তাই প্রতিটি লাইনই গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বগ্রাম (Global Village) : বিশ্বগ্রাম হলো এমন একটি পরিবেশ যেখানে পৃথিবীর সকল মানুষ একক সমাজে বসবাস করে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একে অপরের সেবা প্রদান করে থাকে। অর্থাত্ তথ্য প্রযুক্তির ফলে গোটা পৃথিবীটাকেই একটি গ্রাম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার মেরুদণ্ড হচ্ছে কানেকটিভিটি।
কানাডিয়ান দার্শনিক ও লেখক হারবার্ট মার্শাল ম্যাকলুহান (McLuhan) হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজ শব্দটিকে সকলের সামনে তুলে ধরেন। ১৯৬২ সালে তাঁর প্রকাশিত ‘The Gutenberg Galaxy: The Making of Typographic Man’ বইয়ের মাধ্যমে এ বিষয়টি প্রকাশ করেন।
বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার উপাদানসমূহ:
কম্পিউটার/মোবাইল
প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার
কানেকটিভিটি/ ইন্টারনেট সংযুক্ততা
মানুষের জ্ঞান বা সক্ষমতা ডেটা
বিশ্বগ্রাম (Global Village) এর সুবিধাসমূহ: বিশ্বগ্রামের সুযোগ সুবিধা মূলত তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সুবিধাগুলোকেই বোঝানো হয়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্বের যেকোনো স্থানের যে কোনো ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা যায়।
যেহেতু যেকোনো সময় যে কোনো দেশের যে কোনো ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা যায় ফলে ভৌগোলিক দূরত্ব কমে যায়।
বিভিন্ন দেশ এবং তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা যায়।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করে।
পরের অংশ আগামী শনিবার
