নির্মাণকাঠামো বিষয়ক চুক্তি
ইত্তেফাক রিপোর্ট
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রের নিউক্লিয়ার ফুয়েল ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে রাশিয়ান কোম্পানি টিভিইএল। যত দিন এ কেন্দ্র চলমান থাকবে ততদিন এই রাশিয়ান কোম্পানিটি জ্বালানি সরবরাহ করবে। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সংক্রান্ত নির্মাণকাঠামো বিষয়ক চুক্তিতে সই করে টিভিইএল এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি।
চুক্তিতে বলা হয়, এতে ইউরেনিয়ামের মূল্য, রূপান্তর সেবা, এনরিচমেন্ট সার্ভিস ও ফুয়েল ফেব্রিকেশন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ১০ বছর পর পর এর দর পুনর্মূল্যায়ন করার সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছে আণবিক শক্তি কমিশন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, ফুকুশিমার মতো দুর্ঘটনা ঘটলেও আমাদের কোনো ভয় নেই। কোর ক্যাচার নামে নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। ফুকুশিমায় গ্যাস বের হতো, এখানে গ্যাস বের হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
চুক্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং দেশীয় আইননীতি মেনে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কিছু ফর্মুলা রয়েছে যার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ বিদ্যুেকন্দ্রের কারণে আমাদের ক্ষতি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষা করেই সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ক্ষতিকর— এমন সংবাদ না লিখতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এটা শুধু বিদ্যুেকন্দ্র নয়। প্রাযুক্তিক মাইলফলক অর্জন এবং আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সামর্থ্যের প্রমাণ।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান মাহাবুবুল হক, বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার আই ইগনাটভ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক শৌকত আকবর এবং জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টিভিইএল’র বাণিজ্যিক পরিচালক ফেদর শকোলভ।
পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদিত হবে। ১২০০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে এবং অপর ইউনিটটি ২০২৪ সালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
