তুতু। ছোট্ট মেয়ে। আপনমনে কথা বলে।
পাখির সাথে। মেঘের সাথে। নিজের সব জমানো কথা বলে।
পাখির কাছে আবদার করে, ‘তোমার ডানাদুটো দেবে? মেঘের বাড়ি যাবো!’
মেঘকে বলে, ‘তোমার মতো আমিও দেশে দেশে ঘুরবো...’
অমনি পাতায় শিশির পড়ে।
শিশির ফোঁটা দিয়ে খুশিতে তুতু নিজের নাম লেখে।
একদিন ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়তে দেখে দাদুকে তুতু বলে—‘জানো তো, মেঘ থেকে যে বৃষ্টি পড়ে সেটাও আমি জানি।’
দাদু অবাক চোখে তাকিয়ে বলে, ‘তুই কিভাবে জানিস?’
চোখ নামিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে, ‘বাবা যখন বকে। তখন মেঘের দিকে তাকিয়ে শুধু বলি, বৃষ্টি তুমি নামো। অমনি বৃষ্টি ঝরে...’
দুপুরবেলা বরইতলায় রোদ পোহাতে ছাগলছানা গেল। দেখে সেখানেও তুতুন সোনা। হাসছে।
ছানার দিকে তাকিয়ে তুতু বলে, ‘রোদের কাছে হাসি শিখছি। দেখো রোদটা কেমন ঝলমলিয়ে হাসছে...’
বাড়ির কাছের বিশাল আম গাছটা। বাবা একদিন চুপিচুপি আম গাছটার কাছে গিয়ে দেখে, তুতু ওকে ফিসফিসিয়ে কী-কী সব বলছে। কাছে গিয়ে শুনতে পায়, তুতু বলছে—
—মামণিটা ভীষণ বোকা! কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ কিছুই বোঝে না!...
দাদুটা সব খেয়াল রাখে। পয়সাগুলো জমিয়ে তাই দাদুর কাছেই দেবো... বাবার সাথে আড়ি-আড়ি-আড়ি! রোজ বিকেলে বাড়ি ফিরেই শুধু ডাক্তারি...
মনের কথা জানতে পেরে তুতুকে বাবা জড়িয়ে ধরে। বলে, ‘মামণি গো, এখন থেকে বাড়ি ফিরে আর নয় ডাক্তারি!’
এ কথায় তুতুর চোখের এক ফোঁটা পানি মেশে গাছের সাথে।
