মির্জাপুরে বংশাই-লৌহজং নদীর তীব্র ভাঙন

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ২১:২১

বিলীন হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা

 মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বংশাই-লৌহজং নদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, পাকা ও আধাপাকা রাস্তাঘাট, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্রিজ-কালভার্ট এবং হাটবাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা। গত শনিবার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

জানা গেছে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই মির্জাপুর উপজেলায় বংশাই ও লৌহজং নদীর তীব্র ভাঙনে সহায় সম্বল হারাচ্ছেন এলাকার শত শত পরিবার।

ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ, বৈল্যানপুর গ্রামের সেলিম খান, সুতানরী গ্রামের আমিনুর রহমান ও আব্দুল জলিল অভিযোগ করে বলেন, বংশাই নদীর ভাঙনে ফতেপুর উচ্চবিদ্যালয়, ফতেপুর হাটবাজার, থলপাড়া, সুতানরী, বৈল্যানপুর, হিলড়া আদাবাড়ি বাজার, চাকলেশ্বর, গোড়াইল, ত্রিমোহন, গাড়াইল, কোদালিয়া, হাঁটুভাঙা ও আজগানা এলাকার রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজারসহ ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

ভাঙন প্রতিরোধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ করে। নদীভাঙনের ফলে ফতেপুর হাটবাজার, হিলড়া আদাবাড়ি বাজার, হিলড়া আদাবাড়ি মোকছেদ আলী উচ্চবিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি ব্রিজ-কালভার্ট ও বহু ফসলি জমি হুমকির মুখে রয়েছে। ইতিমধ্যে হিলড়া আদাবাড়ি বাজার ও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হিলড়া আদাবাড়ি বাজার সংলগ্ন পাকা রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে মির্জাপুর-বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার সঙ্গে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছে এলাকাবাসী।

এদিকে একই অবস্থা দেখা দিয়েছে লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, উফুলকী, বরাটি, বাগজান, পুষ্টকামুরি, দেওহাটা, বহুরিয়া, কোর্ট বহুরিয়া, গেড়ামারা, কামারপাড়া, ওয়ার্শি ও নাগপরপাড়া এলাকায়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ করে বলেন, শুকনো মৌসুমে ভূমিদস্যুরা নদীতে অবৈধভাবে ভেক্যু বসিয়ে ও ড্রাম ট্রাক দিয়ে বালু উত্তোলন এবং বর্ষা মৌসুমে নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করায় নদীভাঙন তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে।

এদিকে ভাঙন কবলিত এলাকায় উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন এবং মির্জাপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ড ও ফতেপুর ইউনিয়নে দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক, পৌরসভার মেয়র মো. সাহাদত্ হোসেন সুমন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আজাহারুল ইসলাম সিকদার আজাহার, কৃষি অফিসার মো. মশিউর রহমান ও উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, মির্জাপুরের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বেশ কিছু পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার প্রকল্পের মাধ্যমে ঐসব এলাকায় কাজ করা হবে।