তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
তাড়াশে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বয়স্ক, বিধবা ও অসচ্ছল এবং প্রতিবন্ধী ১০ হাজারেরও অধিক ভাতাভোগী। ভাতার টাকার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থেকে বয়োবৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারো কারো ভাতা পেতে সকাল থেকে রাত অবধি লেগে যায়।
সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা জুড়ে মোট ভাতাভোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ১১২ জন। ৫ হাজার ৯৮৮ জন বয়স্ক ভাতাভোগী, ২ হাজার ৭৩৬ জন বিধবা ও অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৮৮ জন। প্রতি তিন মাস অন্তর ঐ তিনটি ব্যাংক থেকে ভাতার টাকা তোলার জন্য আসেন বারুহাস, তালম, দেশীগ্রাম, মাধাইনগর, নওগাঁ, মাগুড়া বিনোদ, সগুনা ও তাড়াশ সদর ইউনিয়নের ভাতাভোগীরা।
নিয়মানুযায়ী তারা প্রতি তিন মাসে বয়স্ক ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা, বিধবা ও অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে ২ হাজার ১০০ টাকা পেয়ে থাকেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাতার টাকার জন্য ব্যাংকগুলোর সামনের সড়ক আর আশপাশের দোকান ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ও মাটিতে গাদাগাদি বসে আছেন সব ভাতাভোগী। সকালে বাড়ি থেকে এসে দিনভর প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরমে সবার নাভিশ্বাস অবস্থা। কখনো বৃষ্টিতেও ভিজতে হয়। তাদের না আছে প্রসাব-পায়খানার ব্যবস্থা।
ভাতাভোগী কুলছুম, সাবুরি, জরিনা বেগম, মর্জিনা বেগম, আমেনা খাতুন, বাহারন নেছা, এন্তাজ আলী, তমেজ আলী, নুরুল ইসলাম, আব্দুল হালিম, সামছু প্রামানিক, এসাহাক সরকার প্রমুখ জানান, একমাত্র তাড়াশ সদর ইউনিয়ন বাদে সাতটি বাকি ইউনিয়নই ভাতাভোগীদের বাড়ি থেকে বেশ দূরে। তাদের অনেকে চোখে কম দেখেন, হাঁটতে পারেন না। আবার কেউ গুরুতর অসুস্থ। অথচ নিরুপায় হয়ে সেইসব ভাতাভোগীদেরও টাকা তুলতে ১২/১৫ কিলোমিটার দূর থেকে ব্যাংকে আসতে হয়। আর অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ব্যাংকগুলোর আশপাশে না আছে তাদের বসার জায়গা না দাঁড়িয়ে থাকার। কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে একটু ঠাঁই খুঁজতে গেলে মালিকরা বলে ওঠেন “এ বাপু এখান থেকে সরে যাও”!
তারা আরো জানান, এত মানুষ ব্যাংকগুলোর সামনের প্রধান সড়কের সামনে যত্রতত্র ঘুরতে ঘুরতে কখনো সড়ক দুর্ঘটনারও শিকার হন। এর আগে বয়স্ক, বিধবা ও অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা আলাদা দিনে দেওয়া হতো। তখন তাদের এমন সীমাহীন কষ্ট করতে হতো না।
এদিকে ব্যাংকগুলোর সূত্র জানিয়েছেন, প্রতিবার এক ইউনিয়নের ভাতাভোগীদের টাকা নেওয়ার জন্য তারা খবর দিয়ে থাকেন। অথচ একই দিনে আট ইউনিয়নেরই ভাতাভোগীরা চলে আসেন। যে কারণে তাদের টাকা দিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।
সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন বলেন, আর হয়ত দুই/তিনবার ভাতাভোগীদের এমন কষ্ট করে টাকা নিতে হবে। ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএম) সম্পূর্ণ হয়ে গেলে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তারা নিজেদের ইউনিয়ন থেকেই স্ব স্ব আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে খুব সহজেই টাকা তুলে নিতে পারবেন।
