টম অ্যান্ড জেরির পেছনের গল্প

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:৪৩

একটা বিড়াল সারাদিন তাড়া করে বেড়াচ্ছে একটা ইঁদুরকে। সারমর্ম কিন্তু এতটুকই। নির্মাতারা ভেবেছিলেন একঘেয়ে না হয়ে যায় কার্টুনটি। কিন্তু জন্ম নিল এক ইতিহাসের। ছেলেবুড়ো সবার মুখেই হাসি ফোটাচ্ছে টম অ্যান্ড জেরি। এই কার্টুনটির পেছনের কিছু গল্প জেনে নেয়া যাক।

১৯৩০ সাল। হলিউডের মেট্রো গোল্ডউইন মেয়ার স্টুডিওর সময় ভালো যাচ্ছে না। তাদের নির্মাণ করা কোনো কার্টুনই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না। জলের মতো টাকা হারাচ্ছে এমজিএম। জোসেফ বারবারা এবং উইলিয়াম হ্যানা একটি বিড়াল এবং ইঁদুরকে কেন্দ্র করে একটি কার্টুন বানাতে চাইলেন যার নাম ছিল ‘পুস গেটস দ্য বুট’।

জ্যাসপার নামের ধূসর একটি বিড়াল এবং জিনক্স নামের একটি ইঁদুরকে ধাওয়া করার সময় জিনিসপত্র ভেঙে ফেলছে আর ইঁদুরটি বিড়ালকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। ১৯৪৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি এই কার্টুনটি প্রথম টিভিতে দেখানো হয়। একটা সময় ইঁদুর-বিড়ালের যুদ্ধ নিয়ে এমজিএম-এর আগ্রহও কমে গিয়েছিল। কিন্তু ১৯৪১ সালে যখন অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য ‘পুস গেটস দ্য বুট’ মনোনয়ন পায় তখন হৈচৈ শুরু হয়ে যায়। পুরস্কার না পেলেও এমজিএম নতুন করে ভাবতে বাধ্য হয়।

হঠাত্ই একদিন জরুরি তলব আসে হ্যানা বারবারার। প্রযোজক ফ্রেড কুইম্বলি অন্যসব বাদ দিয়ে এই কার্টুনটির সিরিজ বানাতে বলেন। দৌড়ঝাঁপ করে বেড়ানো ইঁদুর-বিড়ালের নামকরণের জন্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলো। অ্যানিমেটর জন কারের প্রস্তাব করা ‘টম অ্যান্ড জেরি’ নামটি মনে ধরে সবার। সেজন্য তাঁকে ৫০ ডলার পুরস্কারও দেয়া হয়।

নির্মাতাদের ভয় ছিল যে সারাক্ষণ টম-জেরিকে তাড়া করে বেড়াবে এতে একঘেয়েমি চলে আসতে পারে। কিন্তু গল্প লেখক বারবারা দুর্দান্ত কিছু ভিন্নতা এনে টম অ্যান্ড জেরিকে দেন অমরত্বের স্বাদ।

১৯৪১ সাল থেকে পরের ১৭ বছরে ১০০-র বেশি টম অ্যান্ড জেরি তৈরি হয়। পরের বছর থেকে কমিক বুক ছাপতে শুরু করে কার্টুনটি। ১৯৫৮ সালে কিছুদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায় টম অ্যান্ড জেরির নির্মাণ। ১৯৬১ সালে আবার নতুন করে জীবন পায় টম অ্যান্ড জেরি। অ্যানিমেশনের উন্নতির ফলে মসৃণ এবং চকমকে হয়ে ওঠে টম এবং জেরি। ১৯৬৩ সালে চাক জোনস দায়িত্ব পান টম অ্যান্ড জেরির। ততদিনে তাদের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। নতুন করে জোনসের নির্মাণ করা পর্বগুলো আগের পর্বের তুলনায় খুব জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি। ১৯৯০ সালে হ্যানা বারবারা টম অ্যান্ড জেরি কিডস নিয়ে আবার হাজির হন। ১৯৯১ সালে প্রথম ‘দ্যা মুভি’ নামে বড় পর্দায় আসে টম অ্যান্ড জেরি। বর্তমানে ওয়ারনার ব্রোস স্টুডিও টম অ্যান্ড জেরির তত্ত্বাবধানে আছে।

সাফল্যের পথ কিন্তু একেবারে মসৃণ হয় না। বিতর্ক ছিল এই কার্টুন জুটি নিয়েও। এমজিএম স্টুডিওর মধ্যে টম অ্যান্ড জেরির মারামারিকে উগ্রতা হিসেবেই দেখত অনেকে। একে অন্যকে শায়েস্তা করতে যে-সব অদ্ভুত পন্থা ব্যাবহার করত, অ্যানিমেশন জগতে তখন সেটা ভায়োলেন্স হিসেবেই ধরা হতো। কিন্তু স্টুডিও আবিষ্কার করে—টম-জেরির বোমাবাজি নিয়ে দর্শকদের বিন্দুমাত্র মাথা ব্যথা নেই। হাসি-ঠাট্টায় ওসবকে দর্শকরা উগ্রতা বলে মনে করছে না।

৭টা অস্কার সাথে আরো ৬ বার অস্কারের জন্য মনোনয়ন, অনেক নির্মাতারই হয়তো হিংসা হয়।

ছোটবেলায় সবারই সম্ভবত মনে হতো টম জেরিকে ধরে ফেলুক এবং শায়েস্তা করুক। তবে টম সেটা করতে পারেনি, কখনো না-ই করতে পারুক, বেঁচে থাক টম আর জেরির দ্বৈরথ। বেঁচে থাক ছেলে-বুড়ো সবার মুখে হাসি।