সুষমা ছিলেন বাংলাদেশের বন্ধু

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ২১:৩২

 সম্পাদকীয় ডেস্ক

বড় অসময় চলে গেলেন ভারতের বিজেপির বিগত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তিনি হাসতে জানতেন, মানুষকে ভালোবাসতে জানতেন। কিন্তু জানতেন কি যে আগাম কোনো বার্তা না দিয়ে হঠাত্ করেই মৃত্যু এসে তাঁকে তুলে নিয়ে যাবে পৃথিবীর সব বন্ধন, সব লেনদেন ছিঁড়ে? কেইবা জানে? মঙ্গলবার সন্ধ্যাবেলায় তিনি টুইট করেছেন ভারতের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। অতঃপর হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল ও মৃত্যু। ৬৭ বছর বয়সে কি সুষমা স্বরাজের এভাবে চলে যাওয়ার কথা ছিল? তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০১৬ সালে তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। স্বাস্থ্যগত কারণেই তিনি ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। কিন্তু কে ভেবেছিল অপ্রত্যাশিত চলে যাবেন ১৯৫৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি হরিয়ানায় জন্মগ্রহণকারী এই নেত্রী? 

সুষমা শুধুমাত্র ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে তাঁর পূর্ণ মেয়াদই শুধু শেষ করেননি, জীবনের সর্বস্তরে প্রশংসিত হয়ে একটি বর্ণাঢ্য জীবন পার করেছেন তিনি। আর তাই তো শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভারতে দলমত নির্বিশেষে সবার মাঝে। তিনি সাতবার সাংসদ এবং তিনবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৭৭ সালে তিনি যখন প্রথম হরিয়ানার কেবিনেট মন্ত্রী হন তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৫ বছর। ১৯৯৮ সালে তিনি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে তিনি ভারতের সাধারণ নির্বাচনে মধ্যপ্রদেশের বিদিশা থেকে নির্বাচিত হয়ে বিজেপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সুষমা হরিয়ানার আম্বালায় সনাতন ধর্ম কলেজ থেকে সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ব্যাচেলর ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি চন্ডিগড়ে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে পড়াশোনা করেন। তিনি হরিয়ানায় ল্যাঙ্গুয়েজ ডিপার্টমেন্টের আয়োজিত প্রতিযোগিতায় পরপর তিনবার সেরা হিন্দি বক্তার পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৭৩ সালে তিনি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একজন আইনজীবী হিসাবে প্র্যাকটিস শুরু করেন। তিনি ১৯৭০ সালে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেছিলেন।

এ ছাড়াও তিনি ইউনিয়ন মিনিস্টার, ২০০৩ সালে মিনিস্টার অব হেলথ, ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার এবং এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সুষমা স্বরাজ বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ সফর করেছেন। সেই সফরগুলো ছিল আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথার্থই বলেছেন, সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশের একজন প্রকৃত বন্ধু ছিলেন। আমরা একজন প্রকৃত বন্ধু হারালাম।