আসিফ আহমেদ
আগামী ১২ আগস্ট মুসলমানদের দ্বিতীয় সবচেয়ে বড়ো ধর্মীয় উত্সব ঈদুল আযহা। এটি সাধারণত কুরবানি ঈদ নামেই বেশি পরিচিত। ঈদুল আজহায় মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য গরু, ছাগল, উট, দুম্বা ইত্যাদি পশু কুরবানি দিয়ে থাকে। দিনটি ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলকে এক কাতারে শামিল করার চেতনায় উজ্জীবিত করে। ঈদকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বসেছে কুরবানির পশুর হাট। সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে নিজেদের পছন্দমতো পশু কেনার জন্য। ছোটো-বড়ো অনেকেই আগ্রহের সঙ্গে ভিড় জমাচ্ছে কুরবানির বড়ো বড়ো পশু দেখার জন্য। একইসঙ্গে পোশাক, অলংকার, জুতাসহ অন্য সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয়ে সর্বত্র বাড়ছে ব্যস্ততার পরিধি। শহর থেকে কেনাকাটা করে গ্রামের বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। শ্রেণি-ধর্ম-বর্ণ-ধনী-গরিব নির্বিশেষে সব মানুষ ভাগাভাগি করে নেয় ঈদের আনন্দ। কুরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ধনী-গরিব সবার মাঝে এক ধরনের সমতা বিরাজ করে। এছাড়াও সমাজের বিত্তবান মানুষ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নতুন জামাকাপড় ও ঈদসামগ্রী প্রদানের মাধ্যমে ঈদের আনন্দকে আরো বাড়িয়ে তোলে।
ঈদের আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ ঢাকাসহ অন্য বড়ো শহর থেকে পরিবার-পরিজনসহ গ্রামের বাড়িতে যান। কিন্তু নিরাপদে বাড়ি ফেরার নেই কোনো নিশ্চয়তা। বিভিন্ন ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লঞ্চ রং করে নতুনের মতো করে তোলা হচ্ছে। যানবাহন জুড়েই এখন রয়েছে বাড়ি ফেরার উপচে পরা ভিড়! ঈদ উপলক্ষ্যে বিশেষ ট্রেন ও বাড়তি বগি সংযোজন করার পরও অনেককে ট্রেনের ছাদে চড়ে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। এছাড়া অগ্রীম টিকিট বিক্রি শুরু হলেই বেড়ে যায় কালোবাজারিদের তত্পরতা। যার ফলে সাধারণ যাত্রীদের গুণতে হয় তিন-চারগুণ বেশি ভাড়া। তারপরও সহ্য করতে হয় যানজটের তীব্র যন্ত্রণা। এছাড়াও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে কুলিদের যন্ত্রণায় সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। মালামাল বহনে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত মজুরিতে কাজ করতে তারা নারাজ। তাদের চাহিদামতো টাকা না দিলে শুনতে হয় বিভিন্ন অশালীন ভাষা, আবার হেনস্তা করা হয় অনেককেই। মালামাল জিম্মি করে আদায় করা হয় তিন-চার গুণেরও বেশি টাকা।
এতকষ্টের পরও মানুষ বাড়ি ফেরে, এটাই তার আনন্দ। এই আনন্দকে আরো পূর্ণতা দিতে এবং দুর্ভোগ কমানোর জন্য টিকিট কেনাবেচা ও যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা আরো উন্নত করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লঞ্চ সড়ক ও নৌপথ থেকে সরানো জরুরি। এছাড়াও যানজট ও দুর্ঘটনা নিরসনে কর্তৃপক্ষকে বাড়তি নজরদারি করতে হবে। পরিশেষে, ঈদে সবার জীবন হয়ে উঠুক আনন্দময় ও নিরাপদ, এটাই প্রত্যাশা।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
