চট্টগ্রামে পাম্পগুলোতে ফিরছে স্বস্তি

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০০

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর চট্টগ্রাম নগরের পেট্রোল পাম্পগুলোতে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হতো, সেখানে এখন বেশির ভাগ পাম্পেই নেই দীর্ঘ সারি। ফলে চালকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং কমেছে ভোগান্তি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরের বায়েজিদ, ষোলশহর, নতুন ব্রিজ, বাকলিয়া, বহদ্দারহাট, পাঁচলাইশ, ওয়াসা ও গণি বেকারি-সংলগ্ন বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা যায়, পেট্রোল ও অকটেন নিতে চালকদের তেমন কোনো চাপ নেই। কয়েক দিন আগের দীর্ঘ লাইনের দৃশ্যও আর চোখে পড়ছে না। কোথাও কোথাও পাম্পকর্মীদের অলস সময় কাটাতেও দেখা গেছে। চালকেরা জানান, আগে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকলেও এখন সেই পরিস্থিতি নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নিতে পারছেন তারা। এতে করে দৈনন্দিন চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে।

নগরের গণি বেকারি-সংলগ্ন একটি পাম্পে অকটেন নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক বলেন, কয়েক দিন আগেও এক থেকে দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হয়েছে। হঠাত্ দাম বাড়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই ট্যাংকভর্তি তেল নেওয়া যাচ্ছে। পাম্পের এক কর্মচারী জানান, দুই দিন আগেও পাম্পে তীব্র চাপ ছিল। অনেকেই ট্যাংক ভর্তি করে তেল নিচ্ছিলেন। এখন অনেকেই আগেই নেওয়া তেল ব্যবহার করছেন। ফলে পাম্পে চাপ কমে গেছে।

নগরে যানবাহনের চাপ বেশি থাকে এমন দামপাড়া এলাকার একটি ব্যস্ত পাম্পেও একই চিত্র দেখা গেছে। দেড় মাস ধরে যেখানে দিন-রাত লাইন থাকত, সেখানে গতকাল সকালে কোনো যানবাহনের সারি দেখা যায়নি। পাম্পসংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে চাপ কমেছে। তবে গ্রাহকদের একটি অংশের অভিযোগ, তেলের দাম বাড়ার আগের কয়েক দিন কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ায় তাদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি তেল ও এলএনজি বহনকারী একাধিক জাহাজের আগমন ও খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, মালয়েশিয়া, সিংগাপুর ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা জ্বালানি তেলবাহী কয়েকটি জাহাজ ইতিমধ্যে বন্দরের বিভিন্ন জেটি ও কুতুবদিয়া এসটিএস পয়েন্টে অবস্থান করছে। এসব জাহাজে ডিজেল, অকটেন, জেট এ ১ এবং এলএনজি রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া থেকে জেট এ ১ বহনকারী একটি জাহাজ এবং নাইজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি বহনকারী আরো দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম উপকূলের দিকে আসছে বলেও জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এসব জাহাজের খালাস কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে। বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দেশে জ্বালানির চাহিদা মেটাতে ধারাবাহিকভাবে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ আগমন অব্যাহত রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।

 

ইত্তেফাক/এএম