গাজীপুরের শ্রীপুরের মাধখলা গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ আলতাফ হোসেন তার শিশু নাতিকে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার আশায় ভাংনাহাটি গ্রামের শিল্পপতি আ. ছাত্তারের দারুল উলুম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও হাফিজি মাদ্রাসায় ভর্তি করান। মাদ্রাসার হোস্টেলে থেকে তার আট বছর বয়সি নাতি মাকসুদুল ইসলাম নাজরানা শাখায় লেখাপড়া করছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে ঐ মাদ্রাসার নূরানি শাখার শিক্ষক পড়াশুনা কম পারায় শিশুটিকে পিটিয়ে জখম করে। শিশুটি ঐ ঘটনা তার মাকে জানানোর পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষককে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঐ ছাত্রের প্রতি ক্ষিপ্ত হয় এবং ছাত্রের মাকে বলে ‘আমি ছাত্রদের এভাবেই মারি, বাঁচলে বাঁচবে না হলে মরে যাবে’।
সাত আগস্ট সকালে মাকসুদুল ঈদের ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে জামাকাপড় ছাড়ার পর তার সারা শরীরে পাওয়া যায় নির্যাতনের কালো দাগ। মাকসুদুল পরিবারের কাছে তাকে নির্যাতনের বর্ণনা দিলে তার দাদা আলতাফ হোসেন বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
মাকসুদুল জানায়, তার শিক্ষক প্রায় ১৫ দিন আগে তাকে মারধর করায় তার মা ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। এর জের ধরে প্রায় প্রতি রাতেই হোস্টেলের সবাই ঘুমিয়ে পড়লে রাতের বেলা লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক পেটাত ঐ শিক্ষক। মারপিটের কথা কাউকে জানালে তাকে গলা কেটে হত্যা করার ভয় দেখানো হতো।
ছাত্রের দাদা আলতাফ হোসেন জানান, আমার নাতিকে পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের কাছে নিয়ে গেলে তিনি ছেলেটির সারা শরীরে জখমের চিহ্ন দেখে কেঁদে ফেলেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষকসহ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
