রাজধানীর আদাবরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় পিকআপ থেকে নেমে দৌড়ানোর সময় দুই কিশোর মারা গেছে। এদের নাম সুজন (১৭) ও আরিফ (১৫)। এ ঘটনায় অন্তত ৮-১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকালে আদাবরের ১০ ও ১৬ নম্বর সড়কের শম্পা মার্কেট ও সুনিবিড় হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত অরিফ ও সুজন দুজনই রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ করতো। ময়নাতদন্তের পর দুই কিশোরের লাশ স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন বলে তাকে উদ্ধৃত করে সাংবাদিকদের জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দু-একদিনের মধ্যে জমা দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
জানা গেছে, ঢাকা-১৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান দুজনই ওই আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী।
গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সাদেক খানের পক্ষে তার কর্মী-সমর্থকরা গাড়ি মিছিল নিয়ে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধানমন্ডির দিকে রওনা দেয়। তারা মোহাম্মদপুর এলাকার সুনিবিড় হাউজিংয়ের সামনে এলে অপর একটি পক্ষের বাধার সম্মুখীন হয়। তাদের উপর ইটপাটকেল ছোড়া হয়। পরে দুই পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয় যা কিনা আদাবর থানার ১০ ও ১৬ নম্বর সড়ক, শম্পা মার্কেট এলাকা এবং উত্তর আদাবরের সুনিবিড় হাউজিং এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিংয়ের আগে মোহাম্মদীয়া হোমসের লোহার গেটের সামনে পিকআপ থেকে নেমে দৌড়াতে গিয়ে ওই পিকআপ ভ্যানেরই চাকায় আরিফ ও সুজন পিষ্ট হয়। সেখান থেকে আরিফকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলছেন, জাহাঙ্গীর কবির নানকের সমর্থকরা সাদেক খানের বহরে হামলা চালিয়েছে। তবে নিহত আরিফের বাবা ফারুক বলেন, সাদেক খান সমর্থকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এই সংঘর্ষ ঘটে। আর সংঘর্ষ চলাকালে পিকআপ ভ্যান থেকে নেমে দৌড়ানোর সময় পিকআপ চাপায় তার ছেলে মারা গেছে। অপর দিকে হত্যাকারী বা হামলাকারী যেই হোক না কেন তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক।
নিহত আরিফ ও সুজনের বন্ধু নুরুল আমিন সাংবাদিকদের জানায়, তারা ছয় বন্ধু একসঙ্গে ছিল। সবাই রাজমিস্ত্রীর কাজ করে। গতকাল তাদের কোনও কাজ ছিল না। এলাকার এক বড় ভাই সকালে তাদের ডেকে বলেছিল মিছিলে যেতে হবে। তখন তারা ৬ জনসহ আরো কয়েকজন একত্রে একটি পিকআপে ওঠে। পরে তারা জানতে পারে এটি সাদেক খানের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে যাবার শো ডাউনের পিকআপ। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় তারা মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিংয়ের আগে মোহাম্মদীয়া হোমসের লোহারগেটের ভেতরে পিকআপে ছিল। তখন এক গ্রুপ ইটপাটকেল মারতে মারতে সেখানে আসে। সে সময় যে যার মতো করে পিকআপ থেকে নেমে দৌড়াতে শুরু করে। সুজন ও আরিফ নামার মুহুর্তে চালকও দ্রুত পিকআপ ঘুরিয়ে লোহার গেট দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করে। ফলে পিকআপের নিচে পড়ে চাপা সুজন ও আরিফ।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর জানান, গতকাল রাত দশটা পর্যন্ত নিহত দুই কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের হয়নি।
সংঘর্ষের বিষয়ে সাদেক খান বলেন, যুবলীগের আদাবর থানা কমিটির আহবায়ক আরিফুল ইসলাম তুহিনের নেতৃত্বে তার সমর্থকদের উপর হামলা হয়। তুহিন সাবেক প্রতিমন্ত্রী নানকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে তুহিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সংঘর্ষের সময় তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। তখন তিনি আদাবরে ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
