গণমাধ্যমকে শক্তভাবে সরকারের বিরুদ্ধে যৌক্তিক সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
রোববার (৩ মে) রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা প্রত্যেকে খুব স্ট্রংলি সরকারের যেকোনো ধরনের সমালোচনা, যৌক্তিক সমালোচনা কন্টিনিউ করবেন। এই দেশে একটা দুর্দান্ত ভাইব্রেন্ট মিডিয়া আবার তৈরি হবে, এটা আমি দেখতে চাই।’
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য গণমাধ্যমের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তাই বর্তমান সরকার এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না, যা গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে। বরং সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে তাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি নাকি বলেছি, জনগণের কল্যাণের জন্যই বেশি বেশি লোডশেডিং দিচ্ছে সরকার। একটা ফটোকার্ড আমার বন্ধুরা পাঠিয়ে বলছে, আমার মাথা কি গেল?’ এই ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার সময় তাকে ট্যাগ করে গালিও দেওয়া হয় বলে জানান জাহেদ উর রহমান।
মূলধারার গণমাধ্যমে এ ধরনের ‘মিস ইনফরমেশন’ বা ‘ডিজইনফরমেশন’–সংবলিত ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
এর পাশাপাশি একটি মূলধারার গণমাধ্যম তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ‘ফেক নিউজ’ তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ফেক নিউজ’ করা অন্যায়। এর বিরুদ্ধে সরকার আইনি পথে ও ন্যায্যতার সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে এবং গণমাধ্যমকেও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, ৫ আগস্টের পর আটক সাংবাদিকদের মুক্তির বিষয়টি সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার সহিংসতা রোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নারীদের প্রতি সাইবারের ক্ষেত্রে আমরা জেনুইন গ্রাউন্ডে খুবই টাফ হতে যাচ্ছি।’
এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বিটিভির বার্ষিক বাজেট ৩২০ কোটি টাকার বেশি, অথচ প্রতিষ্ঠানটি আয় করে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকা। তাই প্রতিষ্ঠানটিকে সময়োপযোগী করে পুনর্গঠনের প্রয়োজন রয়েছে।

