গেলবারের রানার্সআপ লিভারপুলের সঙ্গে নরউইচ সিটির খেলা দিয়ে শুরু হচ্ছে ২০১৯-২০ মৌসুমের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারের পর অল রেডদের এবারের লক্ষ্য প্রিমিয়ার লিগের শিরোপাও ফিরে পাওয়া। তবে এক্ষেত্রে কোচ য়ুর্গেন ক্লপের দলের বড়ো বাঁধা হিসেবে পথ আগলে দাঁড়াবে ইংল্যান্ডে আধিপত্য পোক্ত করার লক্ষ্যে থাকা পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি।
গেল দুই মৌসুমে যথাক্রমে ১০০ ও ৯৮ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছিল সিটি। লিগটির ইতিহাসে এর চেয়ে বেশি পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা জয়ের কীর্তি নেই আর কারো। তবে আসন্ন ২০১৯-২০ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগে অন্যরকম এক অর্জন হাতছানি দিচ্ছে সিটিকে। এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ জিততে পারলে প্রতিযোগিতাটির বর্তমান কাঠামোয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর প্রথম দল হিসেবে টানা তিনটি লিগ শিরোপা জেতা দল বনে যাবে সিটি।
গেলবার ইংলিশ ফুটবলে দোর্দণ্ড প্রতাপে খেললেও ইউরোপীয় পরিসরে বরাবরের মতোই ব্যর্থ হয়েছে সিটি। টটেনহ্যাম হটস্পারের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি।
তারপরও এবারের মৌসুমে লিগের সাফল্যকেই পাখির চোখ করছেন গার্দিওলা। স্প্যানিশ কোচের ভাষ্য, ‘এটা একটা স্পষ্ট প্রতিযোগিতা, কেননা এটা প্রতি সপ্তাহান্তেই হয়ে থাকে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক কিংবা দুই ম্যাচে অনেক কিছু হয়ে যেতে পারে।’
গার্দিওলার মতে ঘরোয়া সাফল্যই ইউরোপ জয়ের কাছে নিয়ে যাবে দলকে, ‘যখন আমরা আরো বেশি প্রিমিয়ার লিগ জিতবো তখন ইউরোপে জেতার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। এটা দারুণ প্রক্রিয়া এবং সিটির জন্য এটাই সঠিক প্রক্রিয়া। এই মৌসুমে যদি একটাই কাজ করার থাকে আমার সেটা, এই প্রিমিয়ার লিগই হবে।’
এমন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সিটির সামনে বড়ো বাঁধাটা হবে গেল মৌসুমের রানার্সআপ লিভারপুল। ২০১৮-১৯ মৌসুমে মোটে একটি ম্যাচে হেরেছিল ক্লপের শিষ্যরা। চলতি বছরের শুরুতে সিটির কাছে সেই হারটিই শিরোপা নির্ধারণী হয়ে গিয়েছিল। ৯৭ পয়েন্ট নিয়েও দ্বিতীয় স্থানেই থাকতে হয়েছিল তাদের। প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে এতো বেশি পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হওয়ার নজীর নেই আর কোনো দলেরই।
গেল মৌসুমে লিগের সেরা রক্ষণ ছিল লিভারপুলের, পুরো প্রতিযোগিতায় মাত্র ২২ গোল হজম করেছিল তারা। আক্রমণেও ছিল অল রেডদেরই আধিপত্য। ২২ গোল যুগ্মভাবে সেরা গোলদাতা ছিলেন সাদিও মানে এবং মোহামেদ সালাহ। দলের সামর্থ্য ও প্রতিভা প্রশ্নাতীত। খেলোয়াড়দের এমন সামর্থ্যে বিশ্বাস রেখেই সদ্যসমাপ্ত দলবদলে তেমন কোনো খেলোয়াড়ই দলে ভেড়ায়নি লিভারপুল।
দলটির মিডফিল্ডার জর্জিনিও ওয়াইনাল্ডামের মতে সিটিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে ভালো শুরুর বিকল্প নেই, ‘যতো বেশি সম্ভব পয়েন্ট অর্জন করতে হবে আপনাকে, বিশেষ করে শুরুতে। একটা দল গড়ার চেষ্টা করতে হবে যারা মৌসুমের শেষে আরো বেশি ভালো হয়ে উঠতে পারবে। শেষ মৌসুম থেকে আরো ভালো করতে চেষ্টা করবো আমরা। মূলত এটা এখন শুরু হচ্ছে কেননা এখন পুরো দলটাকে একত্রে পাচ্ছি আমরা।’
সিটি-লিভারপুলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়তে পারে টটেনহ্যাম। গেল মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে খেলা দলটি এবার বড়ো অর্থ খরচ করে দলে ভিড়িয়েছে ট্যাংগুয়ে এন্ডম্বেলেকে। দলে আরো আসতে পারেন উঠতি আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসোও। এমন দল নিয়ে ভালো কিছুর আশা করতেই পারে তারা।
আর্সেনাল আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দলবদলের বাজারে বড়ো অর্থ ঢাললেও ধারণা করা হচ্ছে শিরোপার দৌড়ে ভালো কিছু করতে অন্তত আরো একটি মৌসুম প্রয়োজন তাদের। একই কথা প্রযোজ্য দলবদলে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া চেলসির ক্ষেত্রেও। নতুন কোচ জেরার্ডের অধীনে গুছিয়ে নিতে খানিকটা সময় নিতে হতে পারে দলটির। তাই বলা চলে শিরোপার লড়াইটা এই মৌসুমে ত্রিমুখী হবার সম্ভাবনাই বেশি।
