সাভারে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) দুটি মাঠ ব্যবহার করে থাকে বিসিবি। ঘরোয়া ক্রিকেট বিশেষ করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের বড়ো অংশের খেলা বিকেএসপির ৩ ও ৪ নম্বরে মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। নিজস্ব অর্থায়নে এ দুটি মাঠের ড্রেনেজ সিস্টেম গড়ে তুলেছিল বিসিবি। এই দুই মাঠের জন্য আলাদা কিউরেটর, গ্রাউন্ডসম্যানও রয়েছে বিসিবির।
গত বছরের নভেম্বরে বিকেএসপির সঙ্গে বিসিবির পাঁচ বছরের চুক্তি শেষ হয়ে গেছে। দুই প্রতিষ্ঠানের মাঝে নতুন করে চুক্তিও হয়নি। গতকাল মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ রাশীদুল হাসানের নেতৃত্বে বিকেএসপির একটি প্রতিনিধি দল মিরপুর স্টেডিয়ামে বিসিবি কার্যালয়ে আসে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনের সঙ্গে মিটিং করেন তারা।
মিটিংয়ের পর বিকেএসপির ক্রিকেট প্রশিক্ষক মাসুদ হাসান জানিয়েছেন, বিকেএসপির পক্ষ থেকে নতুন করে চুক্তি করা তথা চুক্তি নবায়নের জন্য বলা হয়েছে বিসিবিকে। একই সঙ্গে মাঠ সংকটের একটি বিষয়ও তুলে ধরেছে বিকেএসপি। এবং ২ নম্বর মাঠটি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে তুলতে বিসিবিকে প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশের একটি ইনডোরের মান উন্নয়নেও বিসিবির সহযোগিতা চেয়েছে তারা।
দুই পক্ষই দ্রুত এই বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে চায়। এজন্য খুব শিগগিরই বিসিবির একটি প্রতিনিধি দল বিকেএসপির ২ নম্বর মাঠ পরিদর্শনে যাবে। মাসুদ হাসান আরো জানিয়েছেন, বিসিবির ব্যবহূত বিকেএসপির ৩ ও ৪ নম্বর মাঠ এখন থেকে নিজেরা ব্যবহার করতে চায় বিকেএসপি। এই প্রতিষ্ঠানে এখন গড়ে উঠছে উইমেন্স কমপ্লেক্স। যার জন্য ৪ নম্বর তারা ব্যবহার করবে। নিজেদের ছাত্র সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ৩ নম্বর মাঠটিও নিজেদের দখলে রাখতে চায় বিকেএসপি। তাই বিসিবিকে ২ নম্বর মাঠের সংস্কার, ড্রেনেজ সিস্টেম নির্মাণে বিসিবিকে প্রস্তাব দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে গতকালকের মিটিংয়ে চূড়ান্ত কিছুই জানায়নি বিসিবি। সরকারি খরচে এসব করতে পারে বিকেএসপিও। তাতে অনেক সময় লাগবে বলে বিসিবিকে দিয়ে দ্রুত সংস্কারের কাজ করিয়ে নিতে চায় তারা।
ঘরোয়া ক্রিকেট, বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের আন্তর্জাতিক সিরিজ, ‘এ’ দল-এইচপির সিরিজ, নারী দলের ক্যাম্প আয়োজনেও বিকেএসপির সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে আসছে বিসিবি। এটুকু নিশ্চিত যে, বিকেএসপির একটি মাঠ কমে গেলে ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজনে বিপাকে পড়ে যাবে দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা।
