ভোলার লালমোহন উপজেলায় গাছ থেকে নারকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. মাসুদ হাওলাদার (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬ জন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে বুধবার দুপুরে লালমোহন পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ড নাারকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সেদিন রাত ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল নেওয়ার পথে ভোলার ভেদুরিয়া লঞ্চঘাটে মারা যান মাসুদ হাওলাদার।
এ ঘটনায় নিহত মাসুদ হাওলাদারের মেয়ে মাসুমা বেগম বাদী হয়ে লালমোহন থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তাররা হলেন- রেশমা বেগম (৩৫), ফিরোজ (৪৫), তানভির (২৫) ও আক্তার (৩০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে লালমোহন পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সুকুমদ্দিন হাওলাদার বাড়ির রেশমা, তার স্বামী ফিরোজ, ছেলে সজীবসহ আরও কয়েকজন মিলে একই বাড়ির মাসুদ হাওলাদারের গাছ থেকে নারকেল পাড়তে যান। এ সময় মাসুদের মেয়ে মাসুমা বেগম তাদের বাধা দিলে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রেশমা তার হাতে থাকা দা দিয়ে মাসুমার ওপর হামলা চালান। পরে মাসুদের বোন বৃদ্ধা ফাতেমা বেগম তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও মারধর করা হয়। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশী মো. শাহিন ঘটনাস্থলে গেলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে বাজার থেকে বাড়িতে ছুটে যান মো. মাসুদ হাওলাদার। এ সময় রেশমা বেগম, তার স্বামী ফিরোজ ও ছেলে সজীব আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
এক পর্যায়ে দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে মাসুদ হাওলাদারসহ দুইপক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে মাসুদ হাওলাদারের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে নেওয়ার পরও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। বরিশাল নেওয়ার পথে বুধবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ভোলার ভেদুরিয়া লঞ্চঘাটে মারা যান মাসুদ হাওলাদার।
লালমোহন থানার ওসি মো.অলিউল ইসলাম বলেন, নিহত মাসুদ হাওলাদারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলার ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

